ফ্যাটি লিভার রোগ বিশ্বব্যাপী দ্রুত বাড়তে থাকা স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই রোগ তখন ঘটে যখন অতিরিক্ত চর্বি লিভারে জমা হয় এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি বিষয়টি উল্লেখযোগ্যভাবে সামনে এসেছে, তা হল- ভিটামিন বি১২ এর অভাব, যা ফ্যাটি লিভার বাড়া এবং পরিস্থিতির অবনতির ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করতে পারে। ভিটামিন বি১২ শরীরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিপাকীয় প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য, বিশেষ করে চর্বির বিপাক। এর অভাব হোমোসিস্টিনের মাত্রা বাড়াতে পারে, যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়ায় এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লিভারের ক্ষতি করে।

Continues below advertisement

কীভাবে লিভারকে প্রাভাবিত করে ভিটামিন B12 ?

ভিটামিন বি১২ লিভারের বিপাকীয় কার্যকলাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যখন এর ঘাটতি হয়, তখন লিভার সঠিকভাবে চর্বি প্রক্রিয়াজাত করতে এবং নির্গত করতে পারে না। ফলে, এই চর্বি লিভারের কোষে জমা হয়, যা প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, NAFLD (নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ) আক্রান্ত ব্যক্তিদের ভিটামিন B12 এর মাত্রা স্বাভাবিক ব্যক্তির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বি১২ এর অভাব হোমোসিস্টিন বৃদ্ধি করে, যা লিভারকে আরও দুর্বল করে দিতে পারে। সৌভাগ্যবশত, বি১২ সাপ্লিমেন্টেশন হোমোসিস্টিন কমাতে এবং লিভারের এনজাইমগুলিকে উন্নত করতে পারে, যা লিভারের অবস্থার অবনতি রোধ করতে পারে।

Continues below advertisement

অভাবের লক্ষণ

ভিটামিন বি১২ এর অভাবের সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে ক্লান্তি, দুর্বলতা, হাত ও পা ঝিনঝিন করা এবং মনোযোগ দিতে অসুবিধা হওয়া। তবে ফ্যাটি লিভারের লক্ষণগুলি প্রায়শই পরে দেখা দেয়। অতএব, অনেক মানুষ বুঝতেও পারেন না যে তাঁদের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। কখনও কখনও, B12 এর অভাব পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে, কারণ এটি পিত্ত গঠন এবং লিভারের বিপাকীয় কার্যকলাপে ভূমিকা পালন করে। অতএব, সময়মতো এর ঘাটতি চিহ্নিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কী করে রক্ষা পাবেন এবং কী এর চিকিৎসা ?

ভিটামিন বি১২ এর অভাব এড়ানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হল, খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে মাংস, মাছ, ডিম এবং দুগ্ধজাত খাবার অন্তর্ভুক্ত করা। কিছু লোকের বয়স, ওষুধ বা হজমের সমস্যার কারণে বি১২ এর শোষণ কমে যায়। এই ধরনের ক্ষেত্রে, ডাক্তারের নির্দেশ অনুসারে সম্পূরক বা ইনজেকশন গ্রহণ কার্যকর। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রাথমিকভাবে B12 এর অভাব সনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে, বিশেষ করে লিভার রোগের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে। এই ঘাটতি পূরণ করলে কেবল লিভারে জমে থাকা চর্বিই কমানো যায় না, বরং প্রদাহও কমানো যায়।