যতই ডায়েটিং করুন, ব্রেকফাস্ট বাদ দেওয়া চলবে না। দিনের শুরুটা হোক সবথেকে ভারী আর সুষম খাবার দিয়ে। এতদিন ধরে প্রায় সব পুষ্টিবিদ, চিকিৎসকরাই আমাদের এই পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু এখন এক গবেষণায় উঠে আসছে এক্কেবারে অন্য দাবি। চিকিৎসকদের অনেকের মতেই সকালের জলখাবার দিনের সবচেয়ে জরুরি খাবার। এই খাবার কোনওভাবেই বাদ দেওয়া যাবে না। আর হাবিজাবি খেয়ে পেট ভরানো যাবে না। দিন শুরু করতে হবে এমন খাবার দিয়ে, যা পেটও ভরায়, শক্তি দেয়, সেই সঙ্গে শরীরের সবরকম নিউট্রিয়েন্টসের চাহিদা পূর্ণ করে।
জল খাবার দেরিতে খেলে দেরিতে খেলে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। পাশাপাশি ক্লান্তি, বিষণ্ণতা, ঘুমের অভাব এবং মুখের স্বাস্থ্য সমস্যার মতো অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যাও দেখা দেয়। ম্যাস জেনারেল ব্রিগহাম (হার্ভার্ড-অনুমোদিত) এবং ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই গবেষণা করেছেন। ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ৪২-৯৪ বছর বয়সী প্রায় ৩,০০০ প্রাপ্তবয়স্কদের উপর নতুন গবেষণাটি করা হয়। তাতে দেখা যায়, সকালের খাবার দেরিতে খেলে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। গবেষকরা ৪২ থেকে ৯৪ বছর বয়সী ২,৯৪৫ জন যুক্তরাজ্যের প্রাপ্তবয়স্কদের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন, প্রায় ২২ বছর ধরে তাদের উপর নজর রাখেন।
চিকিৎসক হাসান দাশতির (ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতাল)ছিলেন গবেষকদলের প্রধান। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায়, গবেষণাটিতে যুক্ত গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে আসেন, মানুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেরিতে খাবার খাওয়ার বদ অভ্যেস করতে থাকে। সকালের জলখাবার দেরিতে খাওয়ার পরিণাম খুব খারাপ হতে পারে। বলা হচ্ছে, প্রতি অতিরিক্ত এক বিলম্বের জন্য মৃত্যুর (যে কোনও কারণে মৃত্যু) ঝুঁকি প্রায় ৮-১১% বেড়ে যায়। তাছাড়া, দেরিতে জলখাবার খাওয়ার সময় অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যাও বাড়ে। যেমন - ঘুমের অভাব, ক্লান্তি, বিষণ্ণতা, খাবার হজমে অসুবিধা এবং মুখে দুর্গন্ধ ইত্যাদি।
যখন আপনি ঘুম থেকে ওঠার সময়ের তুলনায় খেতে দেরি করেন, তখনই শরীরের ঘড়ি সেটা জানান দেয়। হজমে সমস্যা, ব্লাড সুগার বাড়ার মতো সমস্যা হতে পারে। দেরিতে খাওয়ার অভ্যেস দিনের প্রথম দিকে এনার্জির ঘাটতি ঘটাতে পারে। বিপাক এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে চলাফেরার সমস্যা, বিষণ্ণতা, দাঁতের সমস্যা, অথবা ক্লান্তি ডেকে আনে। শরীরের গুরুত্বপূর্ণ প্যারামিটারগুলি গোলমাল করে দিতে পারে।