কলকাতা: দেশে নতুন আতঙ্কের নাম হয়ে উঠল- গিয়ান ব্যারে। স্নায়ুর এক বিরল রোগ। যার জেরে পর পর মৃত্যু এবং নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই 'গিয়ান-ব্যারে' আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বাংলার নানা প্রান্তে। মহারাষ্ট্রের পুণেতে 'GB সিনড্রোম' ভয়ঙ্কর আকার নিয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা একশো ছাড়িয়েছে। ৪ দিনে বাংলায় 'গিয়ান ব্যারে' সিনড্রোমে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগে এই রোগটিকে বিরল রোগ হিসেবেই দেখা হত। কিন্তু হঠাৎ করে এই রোগের প্রাদুর্ভাব কেন? ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন অনুষ্ঠানে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা: অলোক পণ্ডিত এর উত্তরে বলেন, 'এই রোগ একদমই বিরল রোগ। ১০০ বছর আগে এই রোগটি নির্ণয় হয়েছিল। এই রোগ প্রথমে LGB Syndrome নামে পরিচিত ছিল। এই রোগটি ঋতু পরিবর্তিত হওয়ার সময়ই হয়ে থাকে। কারণ এই সময়ে ভাইরাল ইনফেকশন, ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের প্রাদুর্ভাব বাড়ে। এবারও সেটা দেখা যাচ্ছে।'
তবে কি এই রোগটি ছোঁয়াছে?
চিকিৎসকের কথায়, এটি ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া কিংবা অনেকসময় আফটার অপারেশন হলেও এই রোগটি ছোঁয়াচে নয় একেবারেই। হয়তো কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় সেই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে তবে এক রোগীর থেকেই আরেক রোগীর হচ্ছে তেমনটা নয়। কোভিডের সময়ও এই রোগটি দেখা গিয়েছিলও। তবে এই রোগটি হলেই মৃত্যু অবধারিত সেটা নয়।
এই রোগটি কেন হয়?
স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা: অলোক পণ্ডিত বলেন, 'এখনও পর্যন্ত এই বিষয়টি পরিষ্কার নয় যে কেন এই রোগটি হয়। আগে ভাবা হত ভাইরাল এবং ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের পর তার একটি অংশ দেহের স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত হানে। সেই সময় দেহের অনাক্রমতা ভুল করে ফেলে। সেটি তখন ওই ভাইরাসকে আক্রমণ না করে স্নায়ুকেই আক্রমণ করে ফেলে। তবে এই রোগকে 'সেলফ হিলিং' রোগ হিসেবেই বর্ণনা করা হয়েছিল মেডিকেলে। তবে পরে চিন থেকে এর একটি ভেরিয়েন্ট আসে। সেটা মায়োলিন শিথ ড্যামেজ করে দেয় এবং নার্ভও নষ্ট হয়ে যায়। এবার দুটো ভ্যারিয়েন্ট আসার পর যে রোগটি হচ্ছে সেটা গিয়ান ব্যারে কি না তা নিয়ে সংশয় আছে'।
জটিল এই স্নায়ুর রোগ সামলাতে কার্যত হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করলেন স্বাস্থ্য দফতরের শীর্ষ কর্তারা। সূত্রের খবর, কেন্দ্রের তরফে উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হচ্ছে পুণেতে।
আপনার পছন্দের খবর আর আপডেট এখন পাবেন আপনার পছন্দের চ্যাটিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটস অ্যাপেও। যুক্ত হোন ABP Ananda হোয়াটস অ্যাপ চ্যানেলে