আমাদের আশপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা সকালে ঘুম থেকে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে কাশতে শুরু করেন। এটি ঘন ঘন হয় এবং কখনও কখনও উল্লেখযোগ্য অস্বস্তির কারণ হয়। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের কাশি কমতে শুরু করে। আসলে, এটি কোনও সাধারণ কাশি নয়। এর পিছনে অনেক কারণ রয়েছে। আসুন আমরা জেনে নিই, সকালের কাশি কী কারণে হয় এবং এর ফলে কী কী রোগ হতে পারে।

কারণ কী ?

যদি আপনার সকালে কাশি হয়, তাহলে এর চারটি কারণ থাকতে পারে। প্রথমটি হল, COPD। এই অবস্থার ফলে ফুসফুসের শ্বাসনালী শক্ত হয়ে যায়, যার ফলে শ্বাস নিতে অসুবিধা হয়। সকালের বাতাস বা বায়ু দূষণের কারণে এটি হতে পারে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে কার্বন ডাই অক্সাইড বের করে দেওয়া যায় না এবং শরীরের ভেতরে আটকে থাকে। এই অবস্থায়, ফুসফুস গ্যাস বের করে দিতে এবং অক্সিজেন গ্রহণ করতে অসুবিধা অনুভব করে। এই কারণে রোগীর প্রচণ্ড কাশি শুরু হয়। আরেকটি কারণ হল, হাঁপানি। এতে, সকালের বাতাসে উপস্থিত পরাগরেণু এবং বায়ু দূষণ এটিকে ট্রিগার করতে কাজ করে, যার কারণে শ্বাস নিতে অসুবিধা হয় এবং কাশি শুরু হয়।

তৃতীয় কারণ হল, ব্রঙ্কাইটিসও এই অবস্থার কারণ হতে পারে। এই অবস্থা ব্রঙ্কিয়াল টিউবের প্রদাহের কারণে হয়। ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস এই অবস্থার কারণ হয়। এর ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই কাশি হতে পারে। এই অবস্থায়, কাশি কখনও কখনও শ্লেষ্মা সহ কাশিতে পরিণত হয়। চতুর্থ কারণ হল GERD (গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ)। এটি হজমের দুর্বলতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সমস্যা, যার ফলে বুকে জ্বালাপোড়া এবং টক ঢেকুর ওঠে। এটি গলা বা ফুসফুসে জ্বালা সৃষ্টি করতেও সক্ষম, যার কারণে সকালে কাশির সমস্যা শুরু হয়।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত ?

যদি আমরা এই বিষয়ে কখন ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত সে সম্পর্কে কথা বলি, তাহলে তথ্য অনুসারে, যদি কাশি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলতে থাকে, তাহলে আপনার অবিলম্বে ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। যদি আপনার কাশিতে রক্ত, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট (শিসের শব্দ), ওজন হ্রাস, ক্লান্তি, ঘুমের ব্যাঘাতের মতো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে আপনার অবিলম্বে একজন ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।

তথ্যসূত্র : এবিপি নিউজ