২৪ মার্চ, ২০২৩আজ কিছুটা দেরি করে ঘুম থেকে উঠেছি। তারপর সেই লোভনীয় প্রাতঃরাশ সেরে বেরিয়ে পড়লাম আমরা। প্রথমেই রাইনের ধারে গিয়ে সৌম্যজিৎ একটা গানের শ্যুটিং করল। তারপর তাদের সঙ্গী হল ব্যান। শ্যুটিং পর্ব সেরে আমরা সোজা ট্রাম ধরে বনের উদ্দেশে রওনা দিলাম। বন হল বিঠোভেনের শহর। শহরের পথে খানিক হাঁটলেই বোঝা যায় ছোট শহর, কিন্তু বেশ হাই প্রোফাইল। ম্যাপ দেখে যখন হেঁটে চলেছি আশপাশে নামিদামি ব্রান্ডের দোকান। পড়ন্ত রোদে গা এলিয়ে রেস্তোরাঁয় ভিড়। বাড়িঘর, স্টেশন, পোস্ট অফিস, চার্চ, ক্যাথিড্রাল, সবই বেশ নজরকাড়া। তুলনামূলক একটা সরু রাস্তায় বিঠোভেনের জন্মস্থান। সেখানেই সংগ্রহশালা তৈরি হয়েছে। অনেকেই হয়ত জানেন বিঠোভেন জীবনের একটা বড় সময় কানে শুনতে পেতেন না। বধির অবস্থাতেই তিনি একের পর এক অনবদ্য কম্পোজিশন তৈরি করে গেছেন। তাঁর ব্যবহৃত নানা বাদ্যযন্ত্র, তাঁর লেখা নোটেশনের খাতা আজও ছুঁয়ে দেখা যায় এই সংগ্রহশালায়। শোনা যায় তাঁর সৃষ্ট সুরের ধারা।
২৫ মার্চ, ২০২৩খুব ভোরে উঠে রওনা দিতে হল। প্রচুর অ্যান্টিক কেনার ফলে লাগেজও বেড়েছে। ব্যান এবং নানা দুজনে দুটো গাড়ি নিয়ে ভোরের আলো ফোটার আগেই প্রস্তুত হয়ে আমাদের সবাইকে পৌঁছে দিলো কোলন স্টেশনে। আজ আমাদের হামবুর্গ যাওয়া। জার্মান ফোক রকস্টার স্টেফান স্টপক তার সঙ্গীত জীবনের ৩০ বছর পূর্তিতে এক কনসার্ট আয়োজন করেছেন। সেখানেই আমন্ত্রিত হয়ে গাইবে সৌম্যজিৎ সঙ্গে সৌরেন্দ্র।
ট্রেন থেকে নেমে আমরা সোজা পৌঁছে গেলাম অনুষ্ঠান মঞ্চে। মঞ্চের আবহ অনেকটা ফ্যাকট্রি শেডের মত। রক কনসার্টের প্রস্তুতি দেখে আমরা হোটেলে চলে গেলাম। আজ শুধুই অনুষ্ঠান। কয়েক ঘন্টা বিশ্রাম নিয়ে সেজেগুজে আবার বিকেলে আমরা হাজির হলাম অনুষ্ঠান মঞ্চে। গ্রিনরুমে এলাহি খাবার আয়োজন। খেয়ে, সাউন্ড চেক করে আমরা অপেক্ষা করতে লাগলাম।
কনসার্ট শুরু হল। রক কনসার্ট। তাই দর্শকরা সবাই দাঁড়িয়ে দেখছেন। হলের প্রতিটা কোনা শুধু মাথা আর মাথা। গান চলতে লাগলো। সৌরেন্দ্র- সৌম্যজিতের ডাক পড়ল কিছুটা পরে। ওরা মঞ্চে উঠতেই কয়েক হাজার জার্মান শ্রোতা উৎসাহে চিৎকারে হাততালিতে ফেটে পড়লেন। আমি মঞ্চের ছবি তোলার চাইতেও যেন চারপাশের মানুষের আনন্দে ভেসে যাচ্ছিলাম। দর্শক হিসেবে তো দেখলামই, ক্রু হিসেবেও দেখলাম মঞ্চের পিছনে কী অসম্ভব ডিসিপ্লিন। যে যার কাজ নিঃশব্দে করে চলেছে। কাউকে চেঁচিয়ে পাড়া মাথায় করতে হচ্ছে না। অথচ সবাই হাসিমুখে দায়িত্ব পালন করে চলেছে। জার্মানদের থেকে এই ডিসিপ্লিন প্রতিটি মানুষের শেখা প্রয়োজন। রাতেই আমাদের বাস হামবুর্গ থেকে। মাঝরাতে কাঁপতে কাঁপতে গিয়ে যখন বাসে উঠলাম তখন রাত সোয়া একটা। রাত ঘুমের ওপারে নতুন দেশ অপেক্ষা করে রয়েছে।
আরও পড়ুন : ব্রিজের গায়ে অজস্র তালা ঝোলানো, ভালবাসার প্রতীক
চলবে...