২ মাস আগেই পাকিস্তান সীমান্তের কাছে পূর্ব আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্প শয়ে শয়ে মানুষের প্রাণ গিয়েছিল। দুর্গম জায়গায় ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়েই মারা যান বহু মানুষ। প্রবল দুর্যোগে উদ্ধারকারীদল পৌঁছতেই পারেনি অনেক দুর্গতর কাছে। সেই ক্ষতে প্রলেপ পড়তে না পড়তেই আবার কাঁপল কাবুলিওয়ালার দেশ। আবার হিন্দুকুশ পর্বতে বড় কম্পন। রবিবার গভীর রাতে আফগানিস্তানে ভূমিকম্পের জোরালো কম্পন অনুভূত হয়।

Continues below advertisement

এখানে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে দুবার জোরালো ভূমিকম্প হয়। মানুষের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক তৈরি হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা (USGS) অনুসারে, প্রথম ভূমিকম্পটির রিখটার স্কেলে তীব্রতা ছিল ৩.৯। পরেরটি ছিল আরও জোরালো,তীব্রতা ছিল ৬.৩। এই ভূমিকম্পটি স্মৃতি উস্কে দিয়েছে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে ঘটে যাওয়া ২ মাস আগের ভূমিকম্পের। 

ইউএসজিএস জানিয়েছে যে ভূমিকম্পটি ঘটে স্থানীয় সময় অনুযায়ী রাত ১২:৫৯ মিনিটে (২০:২৯ জিএমটি) । হিন্দুকুশ অঞ্চলের মাজার-ই-শরিফ শহরের কাছে খোলমে ভূপৃষ্ঠের ২৮ কিলোমিটার (১৭ মাইল) গভীরে ঘটে। ধাক্কা অনুভূত হয় রাজধানী কাবুলের এফপি সংবাদ সংস্থার দফতরেও।  

Continues below advertisement

কখন কখন অনুভূত হয়েছিল ভূমিকম্পের কম্পন?

ভারতীয় সংস্থা ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS) অনুসারে, প্রথম ভূমিকম্পটি রবিবার (২ নভেম্বর, ২০২৬) রাত ২০:৪০:৫২ মিনিটে হয়, অর্থাৎ রাত ৯ টা বাজার কিছুক্ষণ আগে। রিখটার স্কেলে তীব্রতা  ছিল ৩.৯ । এই ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল মাটির ১০ কিমি গভীরে। তার ঠিক পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে হিন্দুকুশ এলাকায় দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি হয়। রিখটার স্কেলে তীব্রতা ছিল ৬.৩। এর কেন্দ্র ছিল মাটির ২৩ কিমি গভীরে। 

ভূমিকম্পের পর ঘর ছেড়ে পালাল মানুষ

স্থানীয় প্রশাসন একটি হেল্পলাইন চালু করেছে।   এখনও  পর্যন্ত কোনও মৃত্যু বা আহত হওয়ার  খবর পাওয়া যায়নি। এএফপি সংবাদদাতা জানিয়েছেন , মাজার-ই-শরিফে বহু মানুষ মাঝরাতে তাদের ঘর ভেঙে যাওয়ার ভয়ে রাস্তায় নেমে আসে।  ২০২১ সালে এ আফগানিস্তানে ক্ষমতায় ফেরে তালিবানরা। এর  পর থেকেই একাধিক বড় ভূমিকম্প হয়েছে সেখানে। ২০২৩ সালে ইরানের সীমান্তে পশ্চিম হেরাত অঞ্চলে  হওয়া ভূমিকম্পটি ছিল বেশ ভয়াবহ। তাতে বহু মানুষ মারা যান এবং ৬৩,০০০ এর বেশি ঘর ভেঙে যায়। এই বছর ৩১ অগাস্ট ৬.০ তীব্রতার একটি ভূমিকম্প হয়। সেখানেও ২,২০০ জনের বেশি মানুষ মারা যায়। এটি আফগানিস্তানে সাম্প্রতিক  অতীতে সবচেয়ে মারাত্মক ভূমিকম্প ছিল।