নয়াদিল্লি: পাকিস্তানে Operation Sindoor চালানোর পর সর্বদল বৈঠক। বিরোধীদের ঐক্য বজায় রাখার বার্তা পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার সংসদের লাইব্রেরিতে সর্বদল বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেখানে মঙ্গল-বুধ মধ্যরাতে পাকিস্তানে চালানো সেনা অভিযানের খুঁটিনাটি তুলে ধরা হয়। পাকিস্তানের ভিতরে ঢুকে যেভাবে জঙ্গিঘাঁটি গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তার জন্য দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সাহসিকতা ও বীরত্বের প্রশংসা করেন সকলে। কিন্তু বৈঠকে আজও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে। (All Party Meeting)

তবে বৈঠকে মোদির অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কংগ্রেস নেতা পবন খেরার বক্তব্য, "গোটা বিশ্বকে বার্তা দিতে হলে প্রধানমন্ত্রীর নিজের বৈঠকে যোগ দেওয়া উচিত। আমরা তো বার বার অনুরোধ করছি। ভারত যে ঐক্যবদ্ধ, বিশ্বের কাছে সেই বার্তা যাওয়া উচিত।" এর আগে, পহেলগাঁও হামলার পর যে সর্বদল বৈঠক ডাকা হয়, সেখানেও মোদি উপস্থিত ছিলেন না। বিহারে অন্য় কর্মসূচি নিয়ে ব্য়স্ত ছিলেন তিনি। সেই সময়ও বিরোধীরা সমালোচনায় সরব হয়েছিলেন। (Operation Sindoor)'

বৈঠক থেকে বেরিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গে বলেন, "ওঁরা যা বললেন, আমরা শুনলাম। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু জিনিস গোপন রাখতে হচ্ছে, প্রকাশ করা যাচ্ছে না বলে জানালেন। আমরা যাঁরা ছিলাম বৈঠকে, সকলেই সরকারকে সমর্থন জানিয়েছি। দেশের স্বার্থে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছি আমরা।" বৈঠকে মোদির অনুপস্থিতি নিয়ে বলেন, "গতবারও ছিলেন না, এবারও ছিলেন না। ওঁর ইচ্ছে। উনি হয়ত নিজেকে সংসদের ঊর্ধ্বে মনে করেন। সময় এলে নিশ্চই বলব। এই সঙ্কটের সময় সমালোচনা করতে চাই না।"

আসাদউদ্দিন ওয়েইসি বলেন, "ভারতীয় সেনার প্রশংসা করেছি, সরকারের প্রশংসা করেছি। Operation Sindoor নিয়ে বলেছি। The Resistamce Front-এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রচারের কথা বলেছি আমি, যাতে সেটিকে আন্তর্জাতিক সংগঠন হিসেবে গণ্য করা যায়। ভারতে সন্ত্রাস ছড়াতে চায় ওরা। আমেরিকার কাছে TRF-কে জঙ্গি সংগঠন ঘোষণার কথা বলতে হবে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবি তুলতে হবে আমাদের।"

দিল্লি সূত্রে খবর, এদিন সর্বদল বৈঠকে নেতৃত্ব দেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। বৈঠকে সরকারের তরফে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, জেপি নাড্ডারা। কংগ্রেসের তরফে বৈঠকে ছিলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী, মল্লিকার্জুন খড়গে। তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, DMK-র টিআর বালুও বৈঠকে যোগ দেন।

সমাজবাদী পার্টির রামগোপাল যাদব, আম আদমি পার্টির সঞ্জয় সিংহ, উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার সঞ্জয় রাউত, ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির সুপ্রিয়া সুলে, AIMIM সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি, বিজু জনতা দলের সস্মিত পাত্রও বৈঠকে যোগ দেন এদিন। বিরোধীরা প্রত্যেকেই সেনার সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। সন্ত্রাসের সঙ্গে আপসের প্রশ্ন নেই বলে জানিয়েছেন সকলে। 

এর আগে, বুধবার কংগ্রেস ওয়র্কিং কমিটির বৈঠকেও পাকিস্তানে স্ট্রাইকের জন্য সেনাকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।