নয়াদিল্লি: আম আদমি পার্টির (AAP) নতুন ছাত্র সংগঠনের সূচনা হল এবার। মঙ্গলবার দিল্লিতে দলের ছাত্র সংগঠন Association of Students for Alternative Politics (ASAP)-এর সূচনা করলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। AAP-এর ছাত্র সংগঠনে ‘বিকল্প রাজনীতি’র উল্লেখ নজর কেড়েছে সকলের। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, পঞ্জাবে ক্ষমতাসীন দলের নেতা কেজরিওয়াল কোন বিকল্প রাজনীতির পথ দেখাবেন, তা নিয়ে কৌতূহল দেখা দিয়েছেন। নিজেই সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন কেজরিওয়াল। (Arvind Kejriwal)

দিল্লিতে ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার পর রাজধানীর রাজনীতিতে আগের মতো সক্রিয় ভূমিকায় এই মুহূর্তে নেই কেজরিওয়াল। মঙ্গলবার অনেক দিন পর প্রকাশ্য মঞ্চে দেখা গেল তাঁকে। বিকল্প রাজনীতি প্রসঙ্গে সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “মূলধারার রাজনীতিকরা আপনাদের ছেলেমেয়েকে ধর্মীয় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অথচ তাঁরা নিজেদের ছেলেমেয়েকে বিদেশের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পাঠান। ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভোটে জেতা, ভোটার তালিকায় কারচুপি করাই এখন মূল ধারার রাজনীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষের মন জয় করে ভোটে জেতাই আমাদের কাছে বিকল্প রাজনীতি।” (Aam Aadmi Party)

‘বিকল্প রাজনীতি’ নিয়ে কেজরিওয়াল আরও বলেন, “গতানুগতিক মডেলকেই আমরা মূলধারার রাজনীতি বলছি, যা ভারতের সব সমস্যার শিকড়। আমাদের জীবনের সব সমস্যাতেই এখন রাজনীতির রং লেগেছে। বাড়ির বিদ্য়ুৎ সংযোগ থেকে সরকারি চাকরির সুযোগ, সবেতে রাজনীতি। আর এই কারণেই যুব সমাজের আরও বেশি করে রাজনীতিতে যোগ দেওয়া উচিত। রাজনীতিকে নিজের করে নিতে হবে, নিজেদের কাঁধে দায়িত্ব তুলে নিতে হবে।”

সম্প্রতি দিল্লিতে AAP-এর ১৬ জন কাউন্সিলর দলত্যাগ করে পৃথক দলগঠনের ঘোষণা করেছেন। তার পর মঙ্গলবার কনস্টিটিউশন ক্লাবের অনুষ্ঠানে দলের নতুন ছাত্র সংগঠনের সূচনা করলেন কেজরিয়াল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন দিল্লি, পঞ্জাব, হরিয়ানা এবং গুজরাতের পড়ুয়ারাও। তাঁদের সকলের পরনে হলুদ পোশাক ছিল। দলের ছাত্র সংগঠন ASAP-এর প্রতীকচিহ্নও সকলের সামনে তুলে ধরেন, যাতে ফাউন্টেন পেনের মুখের অংশটি দেখা যাচ্ছে। পিছনের অংশে রয়েছে আগুন। একঝলকে দেখে রকেট মনে হয়।

সবে সূচনা হলেও, ASAP নির্বাচনে অংশ নেবে এবং দেশের বিভিন্ন কলেজে তারা আলোচনার আয়োজন করবে বলে জানিয়েছেন কেজরিওয়াল। তাঁর কথায়, “নতুন প্রজন্মের ছাত্রনেতারাই ভবিষ্যতে সংস্কারের কাজ করবেন।” এর আগেও ছাত্র সংগঠনের সূচনা করেছিল AAP, ছাত্র যুব সংঘর্ষ সমিতি। ২০১৫ সালে সেটির সূচনা হয় এবং দিল্লি ও পঞ্জাব ইউনিভার্সিটির নির্বাচনেও অংশ নেয়। দিল্লিতে সেটি প্রায় নিষ্ক্রিয়। ২০২২ সালে পঞ্জাব ইউনিভার্সিটিতে প্রেসিডেন্ট পদ দখল করলেও, গত বছর দ্বিতীয় স্থান পায়।