ঢাকা : শুক্রবারের ভূমিকম্পে পড়শি দেশে ক্রমেই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। গতকাল  সকালে আচমকা কম্পন। তীব্র কম্পন অনুভূত হয় কলকাতা সহ গোটা রাজ্যে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, এই ভূমিকম্পের উৎস ছিল বাংলাদেশের মাটির গভীরে। আর তার অভিঘাতেই দুলে উঠল এই বঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গে কোনও প্রাণহানি বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া না-গেলেও ওপার বাংলায় আরও বাড়ল মৃত্যু। 

Continues below advertisement

রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। কম্পনের উৎসস্থল ছিল বাংলাদেশের নরসিংদী এলাকা। কম্পনের জেরে ব্যাপক প্রভাব দেখা যায় বাংলাদেশে। বাংলাদেশের সংবাদপত্র প্রথম আলো সূত্রে খবর, সেখানে ভূমিকম্পের জেরে মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েকজনের। আহতের সংখ্যা ছুঁয়েছে হাজার। 

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুসারে, রাজধানী ঢাকায় চারজন, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল নরসিংদীতে পাঁচজন এবং নারায়ণগঞ্জের শহরতলির নদীবন্দর শহরে একজন মারা গেছেন। বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দাবি, শুধুমাত্র গাজীপুরে  ভূমিকম্পের সময় একটি কারখানা থেকে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে আসার সময় বিভিন্ন ইউনিটে কমপক্ষে ১০০ জন শ্রমিক আহত হন। 

Continues below advertisement

 আরমানিটোলা এলাকায় একটি পাঁচ তলা বাড়ির রেলিং, বাঁশের ভারা ভেঙে কমপক্ষে তিনজন মারা গিয়েছেন। এর মধ্যে বছর আটের এক শিশুও ছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার বাবাকেও মৃত ঘোষণা করা হয়। নারায়ণগঞ্জের শহরতলিতে, দেয়াল ধসে এক শিশু মারা গেছে,তার মাও গুরুতর আহত।  

শুক্রবার সকালে বেশ কিছুক্ষণ ধরে তীব্র কম্পন অনুভূত হয় কলকাতাতেও! কাঁপুনির জেরে, শুক্রবার সকালে, ব্যস্ত অফিসপাড়ায় দেখা যায় আতঙ্কের ছাপ। অফিস ছেড়ে বাইরে চলে আসেন কর্মীরা। তবে ক্ষয়ক্ষতির কোনও খবর মেলেনি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কলকাতা ভূমিকম্প থেকে খুব একটা নিরাপদ নয়। 

বিপর্যয় মোকাবিলা বিশেষজ্ঞ গুপীনাথ ভাণ্ডারির মতে, এই ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প যদি কলকাতায় হত, তাহলে কলকাতার চেহারাটা অন্যরকম হত। আসলে ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল বাংলাদেশে । দূরত্বটা বেশি নয় কিন্তু ওয়েভটা এতটা মুভ করেনি। বিশেষজ্ঞর ব্যাখ্যা, বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে ইছামতী নদী আছে। যথেষ্ট বড়। আস্তে আস্তে ওয়েভটা কিছুটা ওয়াটার বডি দিয়ে পাস করেছে, আর কিছুটা তারও নিচে মাটি দিয়ে পাস করেছে।                বড় বিপদ এড়ানো গেলেও বাংলাদেশের ভূমিকম্পের প্রভাবে কেঁপেছে  মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি থেকে ফরাক্কা,রেজিনগর থেকে জঙ্গিপুর সর্বত্র।