নয়া দিল্লি: পয়লা জুন থেকে বাংলাদেশের বাজারে এসেছে নতুন নোট। তবে সে নোটে নেই বঙ্গবন্ধুর ছবি। আগের নোটের নকশা এবং প্রতীকেও বদল এসেছে। নতুন ডিজাইনের নোটগুলোতে দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপত্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হবে বলে জানান হয়েছে। বাংলাদেশ রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তরফে এই নোট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে আসতেই চর্চা শুরু হয়েছে।

সংবাধমাধ্যম প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, আওয়ামি লিগ সরকারের পতনের পরই নতুন করে নোট ছাপানোর কাজ বন্ধ করে দেয় ইউনূস সরকার। এপ্রিলের শুরু থেকে আগের নতুন নোটও বাজারে ছাড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ওয়াকিবহাল মহলের মত, ওই নোটগুলিতে মুজিবের ছবি থাকার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। 

এরপরই নতুন নোট ছাপানোর পথে হাঁটে বাংলাদেশ সরকার। রবিবার ব্যাঙ্কের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে 'বঙ্গবন্ধুহীন' এই নতুন নোট বাজারে আনে। মোট তিনটি নোট প্রকাশ্যে আনা হয়েছে ব্যাঙ্কের তরফে এগুলি হল, ২০, ৫০ ও ১০০০ টাকা। যেখানে ২০ টাকার নোটে রয়েছে হিন্দু মন্দিরের ছবি, ৫০ টাকায় মুসলিম স্থাপত্য ও ১০০০ টাকার নোটে রয়েছে বৌদ্ধ মন্দিরের ছবি। ধাপে ধাপে পরবর্তী নোটগুলির ডিজাইনও বদল করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক।

কোন নোটে কী বদল? 

১০০০ টাকার পুরনো নোটে মুজিবের ছবির বদলে রয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিসৌধের ছবি।

৫০ টাকার পুরনো নোটেও সামনের দিকে বাঁ পাশে মুজিবরের ছবির বদলে সেখানে রয়েছে আহসান মঞ্জিলের ছবি। 

২০ টাকায় মুজিবরের ছবির জায়গায় রয়েছে কান্তজিউ মন্দিরের ছবি।

বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, বাংলাদেশের বাজারে নতুন নোট বাজারে এসে গেলেও মুজিবের ছবি-সহ ২০, ৫০ এবং ১০০০ টাকার পুরনো নোট বাতিল হচ্ছে না।  

গত বছরের আগস্ট মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মুজিবকন্যা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। তিনি ভারতে আশ্রয় নিলে বাংলাদেশের গদিতে উপদেষ্টা সরকারের প্রধান হিসেবে বসানো হয় মহম্মদ ইউনুসকে। অন্যদিকে মৌলবাদের দল দেশজুড়ে সক্রিয় হয়ে ওঠে ৭১-এর ইতিহাস মুছতে। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত স্থাপত্যের নামবদল, মুজিবের মূর্তি ও স্মৃতিবিজড়িত স্থানে চলতে থাকে বুলডোজার ও অগ্নিসংযোগ। তখনই টাকা থেকে মুজিবের ছবি সরানোর দাবি তুলেছিল মৌলবাদীরা। সেই দাবি মেনে চলতে থাকে প্রক্রিয়া।