নাগপুর: ঠান্ডায় বাইরে বেরনোর জো নেই। বাড়ি থেকে বেরোলেই কাঁপুনি দিচ্ছে গায়ে। সেই অবস্থায় উষ্ণতার খোঁজ করছে সরীসৃপরাও। মহারাষ্ট্রে এবার তার নিদর্শন মিলল। সেখানে হেলমেটের মধ্যে পাকিয়ে বসে থাকতে দেখা গেল গোখরো সাপকে। অল্পের জন্য বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেলেন স্কুটি আরোহী এক তরুণী (Snake Inside Helmet)

Continues below advertisement

মহারাষ্ট্রের নাগপুর থেকে এই ঘটনা সামনে এসেছে। সেখানকার মানবসেবা নগরের বাসিন্দা মিতালি চতুর্বেদি। হেলমেট স্কুটিতে ঝুলিয়ে রাখেননি তিনি। বাড়ির ভিতরেই রেখেছিলেন। বুধবার দুপুর ২টো নাগাদ বাড়ি থেকে বেরনোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মিতালি। সেই সময় হেলমেটের মধ্যে থেকে হিসহিস শব্দ শুনতে পান তিনি। (Cobra Inside Helmet)

ওই শব্দ শুনে আতঙ্কে সেঁধিয়ে যান মিতালি। বাড়ির অন্যরাও ছুটে আসেন তড়িঘড়ি। অতি সন্তর্পণে হেলমেটটি উল্টোতেই দেখা যায়, ভিতরে গুটিয়ে বসে রয়েছে একটি বিষধর গোখরো সাপ। লোকজন দেখে ফণা তোলে গোখরোটি, তাতে উত্তেজনা ছড়াতে দেরি হয়নি। 

Continues below advertisement

হেলমেটের ভিতর গোখরো থাকার কথা মুহূর্তের মধ্যে চাউর হয়ে যায় এলাকায়। অনেকেই মিতালিদের বাড়িতে ছুটে আসেন গোখরোটিকে চাক্ষুষ দেখতে। সেই অবস্থায় খবর দেওয়া হয় শুভম জি আর নামের এক যুবককে। তিনি স্থানীয় সংস্থা ‘Wild Animals And Nature Helping Society’-তে সর্প বিশারদ হিসেবে কর্মরত। 

শুভম এসেই হেলমেট থেকে নিরাপদে গোখরো সাপটিকে বের করে আনেন। পরে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয় সাপটিকে। তবে হেলমেটের ভিতর গুটিয়ে থাকা অবস্থায় সাপটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্য়াল মিডিয়ায়, যা দেখে শিউরে উঠছেন সকলে। হেলমেটের ভিতর কাপড়ের যে সূক্ষ্ম আচ্ছাদন, তার মধ্যেই সাপটি ঢুকেছিল বলে জানা গিয়েছে।

গোখরোর শরীরে নিউরোটক্সিক বিষ থাকে। এক ছোবলেই শেষ করে দিতে পারে মানুষকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে বাড়ির কাছে ইঁট-পাথর জমা করে রাখলে, তার ভিতরও সাপ ঢুকে থাকতে পারে। কাঠ-খড়ের গাদার মধ্যেও ঢুকে থাকতে পারে তারা। বাড়িতে গাছপালা বেশি থাকলে, তা থেকে পাতা পড়ে মাটিতে পচে। দীর্ঘদিন পাতার স্তূপ জমে থাকলে, তার মধ্যেও ঢুকে থাকতে পারে সাপ। 

তাই শীতকালে সাপের উপদ্রব থেকে বাঁচতে হলে দেওয়ালের ফাঁকফোকর বোজানোর পাশাপাশি, দেওয়াল, পাইপের ব্যবধানও বুজিয়ে ফেলা উচিত বলে মত সর্প বিশেষজ্ঞদের। বাড়ির উঠোন, ফাঁকা জায়গায় জিনিসপত্র জমিয়ে রাখবেন না। সব পরিপাটি থাকুক, যাতে সাপ লুকিয়ে থাকতে না পারে।