ঝাড়খন্ডে ভোট প্রচারে কংগ্রেসকে তোপ, ১৪ বছর বনবাসে আদিবাসীদের মধ্যে ছিলেন রাম, বললেন মোদী
Web Desk, ABP Ananda | 03 Dec 2019 03:32 PM (IST)
তিনি ‘কংগ্রেস, জেএমএমের মিথ্যাচার ফাঁস করতে’ বিপুল সংখ্যায় পদ্মফুলে ছাপ দেওয়ার আবেদন করেন। বলেন, এই নির্বাচন ঝাড়খন্ডের উন্নয়নের জন্যই। কংগ্রেসের রাজ্যের খনিজ সম্পদের ওপর নজর রয়েছে, তারা তা লুঠ করতে চায় বলেও দাবি করেন মোদী।
খুন্তি (ঝাড়খন্ড): সংবিধানের ৩৭০ অনু্চ্ছেদ, অযোধ্যা মামলা সহ একাধিক প্রশ্নে ঝাড়খন্ডের নির্বাচনী প্রচারে কংগ্রেস, তার জোটসঙ্গীদের ওপর আক্রমণের মাত্রা বাড়িয়ে বিরোধীরা ‘রাজনৈতিক স্বার্থে’ই দীর্ঘকাল ধরে বিষয়গুলি ‘ইচ্ছে করে’ ঝুলিয়ে রেখেছিল বলে দাবি করলেন নরেন্দ্র মোদী। খুন্তির জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর দাবি, যে বিষয়গুলি দীর্ঘদিন ইচ্ছা করে জিইয়ে রাখা হয়েছিল, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের লোভে কিছু লোক আটকে রাখার চেষ্টা করেছিল, আমরা দেশে শান্তি, সামাজিক সম্প্রীতির স্বার্থে সেগুলির সমাধান খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছি। তিনি আরও বলেন, কংগ্রেস ও তার শরিকরা বহুদিন ধরে রাম জন্মভূমিকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক টিকিয়ে রেখেছিল, তাঁর সরকার শান্তিপূর্ণ পথে তার মীমাংসা করেছে। তিনি ‘কংগ্রেস, জেএমএমের মিথ্যাচার ফাঁস করতে’ বিপুল সংখ্যায় পদ্মফুলে ছাপ দেওয়ার আবেদন করেন। বলেন, এই নির্বাচন ঝাড়খন্ডের উন্নয়নের জন্যই। কংগ্রেসের রাজ্যের খনিজ সম্পদের ওপর নজর রয়েছে, তারা তা লুঠ করতে চায় বলেও দাবি করেন মোদী। পাশাপাশি রাজ্যের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের কাজের ফিরিস্তি দিয়ে বলেন, আমাদের সরকার জেলা খনিজ পদার্থ তহবিল গড়েছে যাতে রাজস্ব বাবদ প্রাপ্ত অর্থের একটা অংশ সংশ্লিষ্ট জেলাতেই খরচ করতে হবে। আরও বলেন, ঝাড়খন্ড এখন ১৯ পার করেছে, আগামী ৫টা বছর রাজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুযোগ হারাবেন না। আপনাদের জন্য আমি সবসময় তৈরি, চাই শুধু আপনাদের সহযোগিতা। বিজেপি সরকার আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় বিশেষ নজর দিচ্ছে। অটলবিহারী বাজপেয়ি সরকারই পৃথক ঝাড়খন্ড সৃষ্টি, আদিবাসী বিষয় সংক্রান্ত আলাদা মন্ত্রক গঠন করেছিল। রামের সঙ্গে আদিবাসীদের ‘সম্পর্ক’ তুলে ধরার চেষ্টায় মোদী জনসভায় বলেন, নির্বাসনের পর অযোধ্যা ছেড়ে রাম যখন বেরিয়ে পড়েছিলেন, তিনি ছিলেন রাজকুমার। ১৪ বছর বনবাসে থাকার পর তিনি হয়ে ওঠেন মর্যাদা পুরুষোত্তম ভগবান রাম। এর কারণ ওই ১৪ বছর তিনি কাটিয়েছিলেন আদিবাসীদের মধ্যে। আদিবাসীদের ভাই-বোনেদের এমনটাই সংস্কার। মঙ্গলবার বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে প্রথম জনসভা করলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ৩৭০ ধারা এখন জম্মু ও কাশ্মীর থেকে বিদায় নিয়েছে। এখন কেন্দ্রশাসিত এলাকা জম্মু ও কাশ্মীরকে উন্নয়ন, আস্থা, বিশ্বাসের রাস্তায় সামিল করার দায়িত্ব লেফটেন্যান্ট গভর্নর গিরীশ চন্দ্র মুর্মুর কাঁধে, যিনি জন্মেছেন, বড় হয়েছেন আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায়। ঝাড়খন্ডে ৮১ সদস্যের বিধানসভার ৫ দফার নির্বাচন পর্ব শুরু হয়েছে ৩০ নভেম্বর, চলবে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ৭ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় ২০টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ।