করোনার থাবা- ফ্রাঙ্কলিন টেম্পলটন ইন্ডিয়া বন্ধ করছে ৬টি ঋণ প্রকল্প
ওয়েব ডেস্ক, এবিপি আনন্দ | 24 Apr 2020 11:39 AM (IST)
সংস্থার প্রেসিডেন্ট সঞ্জয় সাপ্রে বলেছেন, বিনিয়োগকারীদের অর্থ বাঁচাতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত তাঁদের নিতে হয়েছে, একমাত্র এভাবেই পোর্টফোলিও অ্য়াসেটের আদায় সুশৃঙ্খলভাবে করা সম্ভব।
নয়াদিল্লি: ঋণের বাজারে করোনা হামলার প্রথম শিকার হল ফ্রাঙ্কলিন টেম্পলটন মিউচুয়াল ফান্ড। নগদ অর্থের অভাবে ৬টি ঋণ প্রকল্প বন্ধ করে দিতে চলেছে তারা। যদিও ঠিক কীভাবে এই প্রকল্পগুলি তুলে নেওয়া হবে তা তারা এখনও স্পষ্ট করে জানায়নি। শুধু বলেছে, প্রতিদিন প্রকল্পগুলির নেট অ্যাসেট ঘোষণা করা হবে। এই প্রকল্পগুলি মূলত ফলভিত্তিক, এগুলি হল- ফ্রাঙ্কলিন ইন্ডিয়া লো ডিউরেশন ফান্ড, ডায়নামিক অ্যাকরুয়াল ফান্ড, ক্রেডিট রিস্ক ফান্ড, শর্ট টার্ম ইনকাম প্ল্যান, আলট্রা শর্ট বন্ড ফান্ড ও ইনকাম অপারচুনিটিজ ফান্ড। করোনার জেরে বাজারে এই মুহূর্তে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা, টাকার জোগান কার্যত নেই। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের টাকা বাঁচানোর লক্ষ্যে প্রকল্পগুলি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর্থিক কাজকর্ম এক মাসের ওপর বন্ধ থাকায় অর্থের অভাবই এখন দেশের বাজারে সব থেকে বড় সমস্যা। ফলে আপাতত সেই ৬টি ফান্ডই বেছে নেওয়া হয়েছে, যেগুলির প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে হায়ার ইয়েল্ডিং, লোয়ার রেটেড ক্রেডিট সিকিউরিটিতে। তবে শেয়ার সংক্রান্তই হোক বা ঋণ অথবা হাইব্রিড- ফ্রাঙ্কলিন টেম্পলটনের অন্যান্য যে সব ফান্ড ভারতের বাজারে রয়েছে, সেগুলির ওপর এই সিদ্ধান্তের কোনও প্রভাব পড়বে না। সংস্থার প্রেসিডেন্ট সঞ্জয় সাপ্রে বলেছেন, বিনিয়োগকারীদের অর্থ বাঁচাতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত তাঁদের নিতে হয়েছে, একমাত্র এভাবেই পোর্টফোলিও অ্য়াসেটের আদায় সুশৃঙ্খলভাবে করা সম্ভব। করোনা ও তার ফলে লকডাউনের জেরে বাজারে যে নজিরবিহীন অর্থাভাব দেখা দিয়েছে, তার জেরে এই সিদ্ধান্ত বলে তিনি জানিয়েছেন। সংস্থার সিআইও সন্তোষ কামাথ বলেছেন, গত ১০ বছর এমনকী ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁদের সংস্থা এমন বহু ফান্ড পরিচালনা করছে। কিছু ফান্ডের অবস্থা খারাপ হলেও আশা করা হচ্ছে, এগুলির জামানত এখন যেমন আছে তেমনই থাকবে, এগুলিতে অর্থ জমা হওয়াও আগের মতই চলবে। ফ্রাঙ্কলিন টেম্পলটনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও জেনি জনসন বলেছেন, এ দেশে তাঁদের ইতিহাস ২৫ বছরের বেশি পুরনো। গোটা বিশ্বে তাঁদের যে কর্মী রয়েছেন তাঁদের ৩৩ শতাংশই ভারতীয়। এই নজিরবিহীন সময়ে এমন অস্বাভাবিক কঠিন সিদ্ধান্ত তাঁদের নিতেই হত। এই ফান্ডগুলিতে যাঁরা বিনিয়োগকারী, তাঁদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার জন্য এই সিদ্ধান্ত বলে তিনি জানিয়েছেন।