নয়া দিল্লি : গত ৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর ১১টি সংস্থার এগজিট পোলের মধ্য়ে ৮টিই ইঙ্গিত দিয়েছিল দিল্লিতে বড়সড় বদল হতে পারে! আড়াই দশক পরে দেশের রাজধানীর দখল নিতে পারে বিজেপি, পূর্বাভাস ছিলই। কিন্তু স্যাফ্রন-সাইক্লোন যে এতটা গতি নিয়ে আছড়ে পড়বে, বোধ হয় ভাবেননি কেউ। আপের স্বপ্নকে সাফ করে দিল্লির দিলে ফুটল পদ্ম। 

এক্সিট পোল বনাম ফলসব এক্সিট পোলের ফলাফলের গড়, পোল অফ পোলসে ইঙ্গিত ছিল, দিল্লিতে ক্ষমতায় আসতে পারে বিজেপি। সমীক্ষার ফল বলেছিল, বিজেপির স্কোর হতে পারে ৩৬ থেকে ৪২। কিন্তু প্রবণতা বলছে গেরুয়ার স্কোর ৪৭ এ পৌঁছবে।  আম আদমি পার্টি এক্সটি পোলের পূর্বাভাসের থেকেও  পিছিয়ে পড়ল। থামল ২২-এ। এক্সটি পোলে আপের স্কোর ছিল ২৭ থেকে ৩৩টি আসন। গত ২ বিধানসভা নির্বাচনের থেকে এবার কংগ্রেসের স্কোর যে খুব একটা আলাদা কিছু হবে না, এমনটাই ইঙ্গিত ছিল। হলও তাই।  শূন্য়ই রয়ে গেল কংগ্রেস। কোনও কোনও সমীক্ষা বলেছিল, কংগ্রেসের স্কোর ১ এ পৌঁছতে পারে এবার । তবে তা হয়নি। এক্কেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে ১ টি আসনে এগিয়ে থাকলেও কংগ্রেস , পরে সেটাও ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় তারা। 

গত নির্বাচনগুলির ফল

২০১৫ ও ২০২০ সালে  অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ঝাড়ু ঝড়ে দিল্লির বুকে উড়ে গেছিল বিজেপি। ২০১৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে, একক বৃহত্তম দল বিজেপি ৩১টি আসন পেয়েছিল। অর্থাৎ ম্যাজিক ফিগারের থেকে মাত্র ৫ টি কম আসল। ৭০ সদস্যের বিধানসভায় শেষমেষ ক্ষমতার রাশ হাতে রাখে আপ এবং কংগ্রেস জোট। দুজনের মোট ৩৬ টি আসল নিয়ে সরকার গঠিন করে তারা। যদিও সে সরকারের মেয়াদ ছিল মাত্র  ৪৯ দিন। এর পরে,  রাজধানীতে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়।  ২০১৫ সালে, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন আপ বিধানসভা নির্বাচনে ৭০টি আসনের মধ্যে ৬৭টি আসন জিতেছিল, যাকে বলে ঝাড়ু-ঝড়। বিজেপি মাত্র তিনটি আসন জিতেছিল। কংগ্রেস সেবার তাদের খাতাও খুলতে পারেনি।  ২০২০ সালে, AAP এর আসন সংখ্যা একটু কমে হয় ৬২। বিজেপি পায় ৮টি আসন।  সেবারও হাতের হাত শূন্যই ছিল। আর এবার বিজেপি বিরাট লাফে গেল এগিয়ে। আপ ও হাতকে অনেকটাই পেছনে ফেলে দিল্লিতে ডবল ইঞ্জিন সরকার গড়ার পথে এগিয়ে গেল গেরুয়া দল।       

আরও পড়ুন: রাজধানীর বুকে কংগ্রেসের শূন্যের হ্যাট-ট্রিক, কোন ভুলে ফের মার্কশিটে লালকালি?