নয়া দিল্লি: ভারতীয় ভোটারদের হার বৃদ্ধির জন্য ২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দিত আমেরিকা। এই চাঞ্চল্যকর দাবিকে এবার ফের নস্যাৎ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ফের তাঁর মুখে শোনা গেল, ভোটদানের হার বাড়াতে, ভারতে টাকা ঢালার প্রসঙ্গ। বৃহস্পতিবার একটি অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ভারতে ভোটদানের হার বাড়াতে ২১ মিলিয়ন ডলার। ভারতে ভোটদানের হার নিয়ে আমাদের কীসের চিন্তা? আমরা নিজেদের ভোটদানের হার নিয়ে চিন্তিত।
এর আগে ইলন মাস্ক বলেন, ভারতে ভোটারদের বুথমুখী করতে ২ কোটি ১০ লক্ষ মার্কিন ডলার বা ১৮২ কোটি টাকা দিত বাইডেন প্রশাসন। এখন থেকে সেই অনুদান বন্ধ করা হবে। মঙ্গলবারই অনুদান বাতিলের নির্দেশে স্বাক্ষর করেন নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের প্রশ্ন 'কেন এত অর্থ আমরা ভারতকে দিতে যাব? ভারত এবং মোদিকে সম্মান করি, কিন্তু ওরা তো আমাদের থেকে কর বাবদ অনেক টাকা নেয়। ওদের করের পরিমাণ বেশি বলেই আমরা সে ভাবে বাণিজ্য করতে পারছি না। ওদের অনেক টাকা আছে। ওদের ভোটের হার বৃদ্ধির জন্য কেন আমরা ২ কোটি ১০ লক্ষ মার্কিন ডলার অনুদান দিতে যাব?' উল্লেখ্য ভারতে ভোটের হার বৃদ্ধির জন্য এই বিপুল পরিমান মার্কিন অনুদানের কথা জানাজানি হতেই বিতর্ক দানা বাধে।
আমেরিকায় রিপাবলিকান গভর্নরদের সংগঠনের একটি অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে ভারতের অনুদানের প্রসঙ্গ ওঠে। ট্রাম্প বলেন, ‘‘ভারতে ভোটের হার বৃদ্ধির জন্য ২.১০ কোটি ডলার? ভারতের ভোট নিয়ে আমরা কেন মাথা ঘামাব? আমাদের নিজেদের তো অনেক সমস্যা রয়েছে। আমাদের নিজেদের ভোটের হার নিয়েও চিন্তা করতে হবে। এতগুলো টাকা ভারতে যাচ্ছিল! ভাবতে পারছেন?’’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘‘এটা একটা কিকব্যাক স্কিম। ওরা টাকা পাচ্ছে, খরচ করছে, তার পর লাথি মেরে আবার যেখান থেকে এসেছিল, সেখানে পাঠিয়ে দিচ্ছে। কেউ জানে না কী চলছে।’’ এই অনুদান দেওয়া নিয়ে এর আগে বাইডেন প্রশাসনকে তুলোধনা করেছেন ট্রাম্প। ‘‘আমার মনে হয়, কাউকে জেতানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। আমরা বিষয়টি ভারত সরকারকে জানিয়েছি।”
সেই সঙ্গে একে ঘুষ কেলেঙ্কারি বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়ও। শুক্রবার তিনি বলেন, বিষয়টা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। এই রাজনৈতিক কোভিড গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে, সমাজে ঢুকেছে। এনিয়ে বিজেপিকে পাল্টা কটাক্ষ করেছে কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র পবন খেরার দাবি, এনিয়ে মিথ্য়ে প্রচার চালানো হচ্ছে। এনিয়ে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, এগুলো অত্যন্ত উদ্বেগের। সংশ্লিষ্ট দফতর এবং এজেন্সি এটা খতিয়ে দেখছে।
আপনার পছন্দের খবর আর আপডেট এখন পাবেন আপনার পছন্দের চ্যাটিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটস অ্যাপেও। যুক্ত হোন ABP Ananda হোয়াটস অ্যাপ চ্যানেলে