নয়াদিল্লি: এলগার পরিষদ মামলায় চলতি তদন্তের ব্যাপারে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রফেসরের নয়ডার বাড়িতে তল্লাশি পুণে পুলিশের। ওই অধ্যাপকের নাম হ্যানি বাবু। মঙ্গলবার সকাল থেকে অপরাহ্ন পর্যন্ত ৪৫ বছর বয়সি ওই অধ্যাপকের বাসভবনে তল্লাশি চালায় পুণে পুলিশের একটি দল। তাঁর বাড়ি থেকে কিছু বইপত্র তারা বাজেয়াপ্ত করেছে। পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার শিবাজী পওয়ার বাবুর বাসভবনে তল্লাশির খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। জনৈক পুলিশকর্তা এই মামলায় বাবু অভিযুক্ত নন বা তাঁকে গ্রেফতার করা হয়নি, তবে এই মামলায় অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর যোগসাজস থাকার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বাবু কমিটি ফর রিলিজ অব পলিটিক্যাল প্রিজনার্স সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবিতে প্রচার চালায় সংগঠনটি। বাবু দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি পড়ান। তাঁকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০ বি (ফৌজদারি চক্রান্ত), ১২১ ও ১২১ এ (সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বা বিদ্রোহের চেষ্টা করা) ও ১২৪ এ (রাষ্ট্রদ্রোহিতা) সহ বেশ কিছু ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ বিশেষ করে তল্লাশির সময় প্রচারপুস্তিকা খুঁজছিল বলে বাবু সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বুকশেলফের প্রতিটি বই ঘাঁটাঘাঁটি করেছে ওরা। কাবার্ডে স্রেফ তাকাল একবার। প্রচারপত্র, ইলেকট্রনিক্সেই ওদের নজর, স্পষ্ট হয় আমার কাছে। বিরুদ্ধ মত পোষণ করা বা অধিকার রক্ষার পক্ষে দাঁড়ানো লোকজনকে ভীত, সন্ত্রস্ত করাই এর উদ্দেশ্য। বাবুর বাড়িতে শুধুই তল্লাসি, বাজেয়াপ্তকরণ অভিযান হয়েছে বলে জানিয়েছে নয়ডা পুলিশ। এসএসপি বৈভব কৃষ্ণ বলেছেন, গোটা প্রক্রিয়ার ভিডিও রেকর্ডিং হয়েছে। তল্লাশির কারণও ইংরেজিতে তাঁকে বোঝানো হয়েছে। বাজেয়াপ্তকরণ সংক্রান্ত পঞ্চনামার একটি কপিও তাঁকে দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, এলগার পরিষদ মামলায় ২৩ জনকে অভিযুক্ত করে তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)-র সদস্য বলে দাবি করেছে পুণে পুলিশ। তাদের বক্তব্য, মাওবাদীদের সাহায্যেই কোরেগাঁও ভিমার লড়াইয়ের ২০০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে ২০১৭-র ৩১ ডিসেম্বর শানিওয়ারওয়াদায় একদিনের এলগার পরিষদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। এ ব্যাপারে গত বছরের জুন, আগস্টে ইউএপিএ আইনে গ্রেফতার করা হয় নামী আইনজীবী, সমাজকর্মীদের, যাঁদের মধ্যে আছেন সুধীর ধাওয়ালে, সোমা সেন, মহেশ রাউথ, সুধীন্দ্র গ্যাডলিং, রোনা উইলসন, পি ভারভারা রাও, সুধা ভরদ্বাজ, অরুণ ফেরেইয়া ও ভার্নন গনজালভেস। এঁরা সবাই বর্তমানে পুণের ইয়েরওয়াড়া সেন্ট্রাল জেলে বন্দি।