নয়াদিল্লি:  কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার পর ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। মূলত, ভারতের বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক খবর প্রচারের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। পাকিস্তান সরকারের সোশাল মিডিয়া, পাক সংবাদমাধ্যমের সোশাল সাইটের পর সম্প্রতি পাকিস্তানের ইউটিউব চ্যানেলও ব্যান করে ভারত। আর এবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের ইউটিউব চ্যানেল ভারতে ব্লক করল মোদি সরকার।

আরও পড়ুন, ভারতের গতিবিধি জানতে তথ্য চুরির চেষ্টা নির্লজ্জ পাকিস্তানের ! সাইবার হানার চেষ্টা ফের বানচাল

কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার পর সম্প্রতি পাকিস্তানের একাধিক খবর ও বিনোদনমূলক চ্যানেল ভারতে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সুুপারিশে ডন নিউজ, সামা TV, আরি নিউজ, জিও নিউজ-সহ ১৬টি ইউটিউব চ্যানেল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পহেলগাঁও হামলার পর থেকে ভারত, ভারতীয় সেনা এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে এই ইউটিউব চ্যানেলগুলির মাধ্যমে লাগাতার উস্কানিমূলক, মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর, ভুল তথ্য সম্প্রচার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। এরপরেই কড়া পদক্ষেপ মোদি সরকারের। নিষিদ্ধ করা হয় ১৬টি পাক ইউটিউব চ্যানেলের সম্প্রচার। আর এবার সেই তালিকায় নয়া সংযোজন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের ইউটিউব চ্যানেলও। 

পহেলগাঁওয়ে হত্য়ালীলার পর প্রত্যাঘাতের দাবি দেশজুড়ে। তিন বাহিনীও বুঝিয়ে দিচ্ছে তারা আঘাত হানতে প্রস্তুত। নরেন্দ্র মোদি আশ্বাস দিচ্ছেন, কল্পনাতীত শাস্তি হবে। বিরোধীরাও জোটবদ্ধ হয়ে পাকিস্তানকে জবাব দেওয়ার পক্ষে!প্রত্যাঘাতের আশঙ্কায় কাঁপছে পাকিস্তানও। অজ্ঞাতবাস নিয়ে হইচই পড়ে যাওয়ার পর আচমকা প্রকাশ্য়ে এসে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানও বোঝানোর চেষ্টা করছেন তাঁরা প্রস্তুত। এদিকে, পহেলগাঁও সন্ত্রাসের ১১ দিন পরেও অধরা হামলাকারী জঙ্গিরা।  কিন্তু কোনওভাবেই কাউকে যে ছাড়া হবে না, তা স্পষ্ট করে দিয়ে জঙ্গিদের খোঁজে উপত্যকাজুড়ে চলছে চিরুনি তল্লাশি। বিভিন্ন জঙ্গলে ও দুর্গম এলাকায় যৌথ অভিযান চালাচ্ছে ভারতীয় সেনা ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। শ্রীনগরের আকাশ দিয়ে দক্ষিণ কাশ্মীরের দিকে ঘন ঘন উড়ছে সেনাবাহিনীর চপার! শুক্রবারও উপত্যকায় রয়েছেন NIA-র ডিজি সদানন্দ দাতে। এদিনও তিনি যান ঘটনাস্থলে। জরুরি বৈঠক করেন তদন্তকারী আধিকারিকদের সঙ্গে। আজকে NIA-র DG-র দ্বিতীয় দিন। গতকাল তিনি এলাকায় যান। জরুরি বৈঠক করেন। জঙ্গিদের পাকড়াও করার জন্য সব রকম তথ্য হাতে পেতে, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করছে NIA.

এদিন NIA-র আধিকারিকরা GIS অর্থাৎ জিও ইনফরমেশন সিস্টেমের সাহায্যে সমগ্র বৈসরন উপত্যকার ভিডিওগ্রাফি করেন। উপত্যকার ভৌগোলিক অবস্থান, গঠন জানা থেকে এবং জনসংখ্যার মানচিত্র তৈরিতে জিআইএস ব্যবহার করা হচ্ছে। আশেপাশের এলাকাগুলি চরিত্র এবং ভৌগোলিক অবস্থান বিশ্লেষণ করতে সাহায্য করবে GIS. এই প্রযুক্তির সাহায্যে, তদন্তকারী সংস্থা বৈসরন উপত্যকায় জঙ্গিদের আসা-যাওয়ার রুট সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।