নয়া দিল্লি: পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর, পাকিস্তানকে চাপে ফেলতে সিন্ধু জল-চুক্তি স্থগিত করা হয়েছে। আর তা নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছে পাকিস্তান। পাল্টা শনিবার রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত। রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি, রাষ্ট্রদূত পার্বথানেনি হরিশ বলেছেন যে, পাকিস্তান "সন্ত্রাসের বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রস্থল" । পাকিস্তান যতক্ষণ না আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থন বন্ধ করে, ততক্ষণ পর্যন্ত ৬৫ বছরের পুরনো এই চুক্তি স্থগিত থাকবে।
পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে পাক যোগ স্পষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রথমে কূটনৈতিক স্ট্রাইক করে ভারত। স্থগিত করে দেয় ৬৫ বছরের পুরনো সিন্ধু জল চুক্তি। পাকিস্তানের কৃষিকাজের বেশিরভাগ অংশের সেচের জন্য সিন্ধু ও চন্দ্রভাগা- নদীর ওপর নির্ভরশীল। জল না পেলে কী দশা হবে পাকিস্তানের, চন্দ্রভাগার জল কয়েক ঘণ্টা বন্ধ রেখে, কয়েকদিন আগেই তা বুঝিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। রাষ্ট্রপুঞ্জেও বিষয়টি পরিষ্কার করে দিল ভারত। এদিন ইউএন-এর প্রতিনিধিদের সামনে পাকিস্তানি প্রতিনিধি বলেন, "জলই জীবন, যুদ্ধের অস্ত্র নয়"। তারপরই যোগ্য জবাব দিল ভারত।
১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জল চুক্তি, পহেলগাঁও হামলায় ২৬ জন ভারতীয় নিহত হওয়ার একদিন পর গত ২৩ এপ্রিল স্থগিত করে দেয় ভারত। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপুঞ্জে হরিশ জানান, ভারত সর্বদা নদী উচ্চতীরবর্তী রাষ্ট্র হিসেবে দায়িত্বশীল আচরণ করেছে। প্রথমত, ভারত ৬৫ বছর আগে সৎ বিশ্বাসের সঙ্গে সিন্ধু জল চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। সেই চুক্তির প্রস্তাবনাই বুঝিয়ে দেয়, এই চুক্তির মধ্যে কতটা আত্মিক এবং বন্ধুত্বের ভাব ছিল। কিন্তু গত সাড়ে ছয় দশক ধরে, পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে তিনটি যুদ্ধ এবং হাজার হাজার সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে গিয়েছে। সেখানেই সেই চুক্তির চেতনা লঙ্ঘিত হয়েছে।
ভারতের প্রতিনিধি আরও বলেন, গত চার দশকে পাক সন্ত্রাসী হামলায় ২০,০০০ এরও বেশি ভারতীয় নিহত হয়েছেন । এতটা সময় ধরে ভারত অসাধারণ ধৈর্য এবং উদারতা দেখিয়েই গিয়েছে পাকিস্তানকে। পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ ভারতের সাধারণ মানুষের জীবন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অর্থনৈতিক বৃদ্ধি সবটাই ধ্বংস করতে চায়। ভারতের প্রতিনিধ বুঝিয়ে দেন, গত ৬৫ বছরে বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তন ঘটেছে। পাকিস্তান যে শুধু সীমান্তে উদ্বেগ বৃদ্ধি করে অশান্তি পাকিয়েছে তাই নয়, বাঁধ গুলির সময় ও চাহিদা অনুসারে বাঁধগুলির পরিকাঠামো পরিবর্তনই হোক কিংবা চুক্তিতে লেখা কোনও বিধানে প্রয়োজনীয় পরবর্তন, সব ক্ষেত্রেই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ কিছু পুরানো বাঁধ গুরুতর নিরাপত্তা উদ্বেগের সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০১২ সালে, সন্ত্রাসীরা জম্মু ও কাশ্মীরে তুলবুল নেভিগেশন প্রকল্পেও আক্রমণ করেছিল। ভারত গত ২ বছরে যতবার পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংশোধনী নিয়ে আলোচনা করতে বলেছে, ততবারই তারা তা প্রত্যাখ্যানই করেছে। এতগুলি কারণে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত স্থির করেছে, পাকিস্তান সন্ত্রাসে মদত দেওয়া বন্ধ না করলে, এই চুক্তি স্থগিতই থাকবে" ।