আগামী ৫ জুলাই, বাজেট পেশ করতে চলেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। সেই সঙ্গে তিনি পেশ করবেন রেল বাজেটও। ২০১৬ অবধি কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী রেল বাজেট আলাদা দিনে পেশ করতেন। কিন্তু তারপর থেকে অর্থ বাজেট ও রেল বাজেট উভয়ই পেশ করেন অর্থমন্ত্রী। স্বাধীনতার পর থেকে রেল বাজেটের ইতিহাস ঘাঁটলে উঠে আসবে অনেক চমকপ্রদ তথ্য! ১. ১৯৪৭ এর ২৬ নভেম্বর প্রথম রেল বাজেট পেশ করেন স্বাধীন ভারতের প্রথম অর্থমন্ত্রী আরকে শনমুঘম চেট্টি। সেই বাজেটে নতুন কোনও কর বসানো হয়নি। তার প্রথম কারণ, ওই রেল বাজেট ছিল সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পর্যালোচনা। তাছাড়া মাত্র ৮৫ দিন পরেই ১৯৪৮-৪৯ সালের বাজেট পেশ হওয়ার কথা ছিল। তাই ওই পরিস্থিতিতে নতুন করে কোনও কর বসাতে চায়নি সরকার। ২. এ দেশে রেল বাজেট ও অর্থ বাজেট আলাদা ভাবে পেশ করার রীতি ৯২ বছরের। সেই প্রথা প্রথম ভাঙে মোদি সরকার। ২০১৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর মোদি সরকার এই প্রথায় ইতি টানেন। অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি ২০১৭ সালে দুটি বাজেট একসঙ্গে পেশ করেন। ৩. সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশেই বহুদিনের এই প্রথায় ইতি টানা হয়। কমিটির মাথায় ছিলেন নীতি আয়োগের সদস্য বিবেক দেবরয়। অর্থ বাজেট ও রেল বাজেট পৃথকভাবে পেশ করার চল শুরু হয় ব্রিটিশ আমলেই, ১৯২৪ সালে। ৪. ১৯২৪ সালে অর্থ বাজেটের ৮৪ শতাংশ জুড়ে ছিল রেল বাজেটই। কারণ সে-সময় ন্যাশনাল জিডিপির সিংহভাগই আসত রেলের আয় থেকে। ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ উইলিয়াম মিশেল অকওয়ার্থের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের অকওয়ার্থ কমিটি দুটি বাজেট আলাদা করে পেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়। অকওয়ার্থ ১৯২১ সালে ভারতীয় রেলওয়ের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। ৫. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ছিলেন ভারতের প্রথম রেলমন্ত্রী। তিনিই প্রথম মহিলা রেলমন্ত্রী যিনি বাজেট পেশ করেন। ১৯৯৪ সালের ২৪ মার্চ রেল বাজেট প্রথম টেলিভিশনে সম্প্রচার হয়। ৬. রাষ্ট্রীয় জনতা দল সুপ্রিমো লালুপ্রসাদ যাদব ২০০৪ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত রেলমন্ত্রকের ভার সামলেছেন। পরপর ৬ বছর রেলবাজেট পেশ করেন লালুপ্রসাদ। মোদি জমানায় প্রথম রেল বাজেট পেশ করেন সদানন্দ গৌড়া। শেষ পৃথক রেল বাজেট পেশ করেন সুরেশ প্রভু।