কলকাতা: কোথাও জীবিত ব্য়ক্তিকে দেখানো হয়েছে মৃত। কোথাও আবার স্থানান্তরিত না হওয়া সত্ত্বেও, খসড়া ভোটার তালিকায় দেখানো হয়েছে স্থানান্তরিত। এমনই একাধিক অভিযোগ তুলে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। সেখানে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, পুলক রায়, শশী পাঁজা এবং তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক। মঙ্গলবার CEO দফতরে অভিযোগ জানানোর পর সাংবাদিক বৈঠক করেন তাঁরা। তাঁদের দাবি,ভোটারদের সামান্য় নামের বানান ভুল থাকলেও, তাঁদের শুনানির জন্য় ডাকা হচ্ছে। এক্ষেত্রে ভোটারদের যেন শুনানির নোটিস না দেওয়া হয়। পাশপাশি খসড়া তালিকা প্রকাশের পর যাঁদের শুনানিতে যেতে হবে, তাঁরা যাতে ১১তম নথি হিসেবে আধার কার্ড দেখাতে পারেন, এদিন সেই দাবিও CEO-র কাছে জানিয়েছেন তাঁরা। যিনি বেঁচে থেকেও মৃত, তিনি যে প্রকৃতই অসম্মানিত ! সাংবাদিক সম্মেলনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বললেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। কমিশনকে এদিন শুনানির আগে একাধিক ইস্যু তীব্র আক্রমণ করেছেন তিনি।
'ভোটারদের সুবিদার্থে তাঁদের বাড়ির কাছাকাছি শুনানির ব্য়বস্থা করা হোক'
অনেক জায়গায় শুনানি কেন্দ্রগুলি ভোটারের ঠিকানা থেকে বহু দূরে। ভোটারদের সুবিদার্থে তাঁদের বাড়ির কাছাকাছি শুনানির ব্য়বস্থা করা হোক দাবি জানিয়েছে শাসকদল। এদিন চন্দ্রিম ভট্টাচার্য বলেন, আমরা কোনও দিন এর আগে শুনিনি, এরকম করা হয়, তারাও নাকি বাড়ি বাড়ি গিয়ে এরকম করেন। আমরা তো জানি না কোনদিন কে কার বাড়ি বাড়ি গিয়েছেন। আমরা এই কথাগুলি পরিষ্কার করে বলে এসেছি। এবং আমরা বলেছি আপনাকে, এই সমস্ত সমস্যার, সমাধান করতে হবে। এই সমাধান যদি না করেন, কারণ ইসিআই-র মুখ এখানে। এখানে আপনি সিইও। আপনাকেই সমাধান করতে হবে। আপনাকেই বলতে হবে।'
''কারা যেনও বলেছিল ২ নাম কোটি কেটে যাবে, আপনি যদি সেই লক্ষ্যে যান..'
চন্দ্রিমার সংযোজন, 'উনি বলেছেন, নানা ধরণের ডকুমেন্ট, সেগুলি ওনার কাছে থাকলে, সেগুলি আমাদের দেবেন। আমি জানি না কতটা কী দেবেন বা দেবেন না।আমরা অপেক্ষায় থাকব। কিন্তু আমরা খুব পরিষ্কারভাবে বলে এসেছি, লোকের যাতে কোনওরকম হ্যারাসমেন্ট না হয়, আপনাকে দেখতে হবে, পাবলিক যাতে হ্যারাসড না হয়। আপনি তাঁকে বলবেন ৫০ কিমি দূরে গিয়ে করতে হবে, পয়সা দেবে কে ? কতগুলি কেন্দ্র রয়েছে , যেগুলি দ্বীপপুঞ্জের মত, সেগুলি যাবেন কী করে, মানুষ আসবেন কীকরে ? এই নোটিসে সাড়া দিতে ? ফলে আপনি ভাবছেন, যে কেটে দেবেন, ওই কারা যেন বলেছিল দুই কোটি কেটে যাবে, আপনি যদি সেই লক্ষ্যে যান, তাহলে কিন্তু আমরা এর পরবর্তীতে আমরা আরও বেশি পদক্ষেপ নেব। আমরা কিন্তু থেমে থাকব না।
যিনি বেঁচে থেকেও মৃত, তিনি যে প্রকৃতই অসম্মানিত ! ক্ষোভ উগরে দিয়ে বললেন চন্দ্রিমা
পাশাপাশি বেঁচে থেকেও যাদের মৃত বলে নাম এসেছে, এই ইস্যুতেও হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। চন্দ্রিমার কথায়, এটা কি অসম্মান নয়, একটা ভোটারকে অসম্মান করছেন না ? এটা শুধু ডকুমেনটেশন নয়, এটা একটা গণতান্ত্রিক দেশে, ভোটারকে অসম্মান করছেন, আমরা তার বিরুদ্ধে, সবাই মিলে একসাথে বলে এসেছি। '