কলকাতা : বাগুইআটির ভিআইপি ব্রিজের তলায় আগুন। বিকেল ৪টে ২৫ মিনিট নাগাদ আগুন লাগে। যে আগুনের গ্রাসে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কিছু পরিত্যক্ত বাস ও গাড়ি ভস্মীভূত হয়ে যায়। আরও একটি বাসেও আগুন লাগে। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে ছুটে যায় পুলিশ ও দমকলবাহিনী।
দমদমের জনসভা সেরে বাগুইআটি ভিআইপি ব্রিজ দিয়েই ফিরছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগুনের জেরে কালো ধোঁয়া দেখে ঘটনাস্থলে নেমে পড়েন তিনি। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে নির্দেশ দিয়ে আগুনপর্ব নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ তদারকি করেন মুখ্যমন্ত্রী। দমকলের পাঁচটি ইঞ্জিন প্রায় ঘণ্টাখানেকের প্রয়াসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
উত্তর কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী বাগুইআটি ভিআইপি ব্রিজের নীচে আগুনন লাগায় গোটা এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়। আগুন ও কালো ধোঁয়ায় গোটা এলাকা ঢেকে যাওয়ায় বাগুইআটি ব্রিজের ওপর দিয়ে যে গাড়িগুলি যাচ্ছিল, তাদের গতি স্লথ হয়ে যায়। পাশাপাশি আগুনের বিস্তার দেখে এলাকার লোক আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পাশে থাকা আগুনের স্তূপ থেকেই আগুন লেগেছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কয়েকদিন আগেই তপসিয়া রোডে রবারের জুতোর কারখানায় আগুন লেগেছিল। ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছিল কারখানার একাংশ। আর গতমাসেই ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী হয়েছিল কলকাতা।
৮ মার্চ স্ট্র্যান্ড রোডের কয়লাঘাট ভয়াবহ আগুন নেভাতে গিয়ে আগুনের গ্রাসেই প্রাণ হারিয়েছিলেন কয়েকজন। রেলের কয়লাঘাট ভবনে ভয়াবহ আগুন লেগেছিল। বদ্ধ লিফটের মধ্যে থেকে উদ্ধার হয়েছিল ৯ জনের মৃতদেহ। দমকলকর্মী, পুলিশ থেকে রেলের কর্মী নিহত হন। স্ট্র্যান্ড রোডে পূর্ব রেলের অফিসের সেই আগুন নেভাতে প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লেগেছিল।
এরপর গত ৩১ মার্চ সাতসকালে স্ট্র্যান্ড রোডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সকাল পৌনে ৮টা নাগাদ বহুতলের চারতলায় আগুন লাগে। নীচের তলায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখায় যা ছড়িয়ে পড়ে। আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল স্থানীয়দের মধ্যে। দমকলের ৬টি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছিল।