মালদা:বিধানসভা নির্বাচনের আগে মোথাবাড়িতে ঘটে যাওয়া নির্মম ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তুমুল রাজনৈতিক উত্তেজনা। একদিকে যখন বিজেপি দাবি করছে, এটা তৃণমূলের মদতে হয়েছে। ঠিক তখনই অভিযোগের তির বিজেপির দিকে ছুঁড়ছে তৃণমূল। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনা নিয়ে বৈষ্ণবনগরের সভা থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন 'বাংলা রাজ্যটাকে বদনাম করে দিল। যদিও আমার হাতে কিছু নেই। আইনশৃঙ্খলা আমার হাতে নেই।'
শুক্রবার, শুভেন্দু অধিকারী তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও ও ছবি পোস্ট করেন। তারপর শোরগোল পড়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রাজনৈতিক মহলে। তিনি পোস্ট করে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেস ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তোলেন। পোস্টে লেখা, '' বিষয়টা জলের মতো স্পষ্ট - মালদহ জেলায় জুডিশিয়াল অফিসার তথা সম্মানীয় বিচারপতিদের (মহিলা বিচারপতি সহ) ওপর যে ঘৃণ্য প্রাণঘাতী আক্রমণ এক শ্রেণীর মানুষ করেছে, তার মূল চক্রান্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারা রচিত। ''
তিনি আরও লিখে বলেন, '' পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম বিচারপতিদের হেনস্থা হতে হলো তা তো নয়। বারংবার তৃণমূল বিচারপতিদের নিশানা করেছে - কখনও এজলাসে ঢুকতে বাধা দিয়েছে, এজলাসের মধ্যে স্লোগান তুলেছে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বিচার প্রক্রিয়ায় বাধাদান করেছে, কখনো তৃণমূলের মুখপাত্ররা কুরুচিকর ভাষায় বিভিন্ন বিশেষণ যোগে আক্রমণ শানিয়েছেন, তো কখনো বাড়ির সামনে পোস্টার লাগিয়েছে। হুমকি ধমকি চমকানো ইত্যাদি তো প্রতিনিয়ত লেগেই থাকে। ''
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারী লেখেন, ''এখনো পর্যন্ত যে জনৈক মোফ্ফাকারুল ইসলামকে উস্কানি দাতা হিসেবে দেখা যাচ্ছে, তার গায়ে বিভিন্ন তকমা সেঁটে দিতে উদ্যত হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে নাকি বিজেপির চক্রান্ত সফল করতে মহারাষ্ট্র থেকে এসেছে ইত্যাদি মিথ্যার ফুলঝুড়ি আওড়াচ্ছেন মাননীয়া। কিন্তু প্রকৃত সত্য তো জানা যাচ্ছে যে এই ব্যক্তি তৃণমূলের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িত, তৃণমূল নেতাদের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে ঘোরাফেরা করে এমনকি খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক মঞ্চ আলো করে দাঁড়িয়ে রয়েছেন'! 'আমি আগেও বলেছি আবারো বলছি মালদার ঘটনা সম্পূর্ণ তৃণমূল দ্বারা পরিকল্পিত ও পরিচালিত।'
