কলকাতা : ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল চালু হওয়ার কথা নতুন লেবার কোডের। আর এই আইন যে কোনও চাকরির ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক বা কাজের শর্তের ক্ষেত্রে বিরাট পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এই আইনের আওতায় যে কোনও বেতনভুক কর্মীর মোট স্যালারির অন্তত অর্ধেক বেসিক স্যালারি বাধ্যতামূলক করা হবে। এ ছাড়া গিগ বা যে কোনও প্ল্যাটফর্মে কর্মরতদের জন্য সামাজিক সুরক্ষার জায়গাটা আরও বাড়ানো হবে। নতুন আইন অনুযায়ী ওভারটাইম কাজ করলে ঘণ্টা প্রতি টাকা দ্বিগুণ টাকা মিলবে বলেই জানা গিয়েছে। এ ছাড়াও দৈনিক কাজের সময়সীমাও সীমিত করা হবে।
বেতন কাঠামোয় পরিবর্তন
নতুন আইন অনুযায়ী যে কোনও ব্যক্তির বেসিক স্যালারি তাঁর মোট স্যালারির (CTC) অন্তত ৫০ শতাংশ হতেই হবে। এর ফলে, পিএফ ও গ্র্যাচুইটি বাবদ বেশি টাকা কাটা হবে কর্মীদের ইন-হ্যান্ড স্যালারি থেকে। ফলে, ইন-হ্যান্ড স্যালারি কমলেও আগামীর সঞ্চয় বাড়বে কর্মচারীদের।
সামাজিক সুরক্ষা বাড়বে কতটা?
গিগ বা প্ল্যাটফর্ম কর্মী অর্থাৎ যাঁরা স্যুইগি বা জোম্যাটোর মতো সংস্থায় কাজ করেন তাঁদের জন্য স্বাস্থ্য বিমা, দুর্ঘটনা বিমা বা অক্ষমতা বিমার মতো একাধিক জিনিস অন্তর্ভুক্ত হবে এই আইনের আওতায়। অসংগঠিত খাতের ৪০ কোটি শ্রমিকের জন্য একটা বিশেষ তহবিল তৈরি করা হবে। যা ওই শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা দেবে।
এ ছাড়াও যাঁরা ফিক্সড টার্ম কর্মচারী, তাঁদের জন্য পাঁচ বছরে নয়, ১ বছর হলেই গ্র্যাচুইটির সুবিধা মিলবে এই আইনের অধীনে। এ ছাড়াও যে সব কর্মীর বয়স ৪০ বছরের বেশি, তাঁদের জন্য বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুবিধাও দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
বাড়তি কাজে দ্বিগুণ টাকা!
দৈনিক ৮ ঘণ্টা বা সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ যদি কেউ করেন, তাহলে তাঁকে সাধারণ বেতনের দ্বিগুণ মজুরি দিতে হবে, বলা হয়েছে এই আইনে। দৈনিক কাজের সময় প্রয়োজনে বাড়তে বা কমতে পারে, তবে মোট কাজের সময় কিন্তু নির্দিষ্ট থাকবে। এ ছাড়াও জোর করে ওভারটাইম করানো যাবে না। আর ওভারটাইমের জন্য বাড়তি পাওনা দিতেই হবে।
বর্তমানের ৪৪টি শ্রম আইনকে একত্রিত করে ৪টি সরল শ্রম আইনে পরিণত করেছে দেশের সরকার। আর এই আইন চালু হবে বেতনভুক কর্মচারীদের পিএফ ও গ্র্যাচুইটি বাবদ বাড়তি টাকা মিলবে, যদিও কমতে পারে হাতে পাওয়া বেতনের পরিমাণ।
