বীরভূম: অনুব্রত মণ্ডলের সভাতে দাঁড়িয়ে, তাঁর চোখে চোখ রেখে দলের মহিলা কর্মীরা জানিয়ে দিলেন, গ্রামে উন্নয়নমূলক কাজ না হলে, ভোট দেবেন না তাঁরা। তৃণমূলের মহিলা কর্মীরা সাফ জানিয়ে দিলেন, কাজ না হলে জুটবে না ভোটও।
শুক্রবার ছিল সিউড়ি ১ নম্বর ব্লক তৃণমূলের বুথ ভিত্তিক কর্মিসভা। সেখানেই অনুব্রত ভোটের হাওয়া জানতে চাইলে, আলুন্দা পঞ্চায়েতের পাঁচ পাকুরিয়া গ্রামের মহিলা তৃণমূলকর্মীরা জানিয়ে দেন, রাস্তা সংস্কার, যোগাযোগের উন্নতি, গ্রামে টিউওয়েলের ব্যবস্থা না করলে, তাঁরা ভোট দেবেন না।
তাঁদের জবাব, গ্রামের রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে খারাপ যোগাযোগের কোন ব্যবস্থা নেই, গ্রামে কল থাকলেও সেই কল খারাপ তাই পানীয় জলের খুব অসুবিধা। বারবার পঞ্চায়েতে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। যতক্ষণ না রাস্তা এবং পানীয় জল আমাদের ঠিক হবে আমরা কেউ ভোট দেব না। এমনকি গ্রামের অন্যরাও হয়তো দেবে না। দলীয় কর্মীর কড়া সুরের সামনে অনুব্রতর সুর তখন নরম। সব কাজ ফেলে এই কাজ আগে শেষ করার নির্দেশ দেন তিনি।
এর আগে, ওই একই সভায় দলের নেতার বিরুদ্ধে মুখ খোলায় আরেক মহিলা তৃণমূল কর্মীর মুখের সামনে থেকে কেড়ে নেওয়া হয় মাইক্রোফোন। তৃণমূল পরিচালিত নগরী পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন দলের এক মহিলা কর্মী। বলেন, আমি আদিবাসী বলে আমার কথা পঞ্চায়েতে শোনা হয় না, আমাকে সম্মান করা হয় না।
এরপরই তাঁর হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হয় মাইক্রোফোন। গত ৩ সেপ্টেম্বর, সিউড়ি ২ নম্বর ব্লকে, অনুব্রতর সভায় রাস্তা খারাপের অভিযোগ তোলায় তৃণমূলকর্মীর সঙ্গে ঘটে একই ঘটনা। তাঁরও মুখের সামনে থেকে কেড়ে নেওয়া হয় মাইক্রোফোন।
অন্যদিকে, গত লোকসভায় খটঙ্গা পঞ্চায়েত এলাকায় ভাল ফল করে বিজেপি। তৃণমূলের ভোট কমার কারণ হিসেবে, অবৈধ বালি খাদানের রমরমা, রাস্তাঘাট খারাপ ও গ্রামের ছেলেদের বেকারত্বকেই দায়ী করেন তৃণমূলের বুথ সভাপতি বিশ্বনাথ মণ্ডল। বলেন, আমাদের নিজেদের কিছু ভুল ছিল এবং খটঙ্গা অঞ্চলে বিভিন্ন বালিঘাট থাকায় সেখানে গ্রামের রাস্তাঘাট খারাপ হচ্ছে এছাড়াও গ্রামের ছেলেরা কেউ কাজ পাচ্ছে না এই নিয়ে একটা অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি বালিঘাট বেসরকারি আছে জানতে পেরে অনুব্রত মণ্ডল পাশে বসে থাকা জেলা পরিষদের মেন্টর অভিজিৎ সিংহ কে বলেন, অবৈধ বালিঘাটগুলি আছে সেগুলিকে খুব তাড়াতাড়ি গ্রেফতার করার ব্যবস্থা করো।
তৃণমূলের অন্দরে এই টানাপোড়েকে হাতিয়ার করে কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছে বিজেপি। দলের বীরভূম জেলার সাধারণ সম্পাদক অতনু চট্টোপাধ্যায় বলেন, এত দিন যেটা আমরা বলতাম সেটা আজকে অনুব্রত মণ্ডলের সভায় তৃণমূল কর্মীরা বলছেন। বিগত ৯ বছরে সব তৃণমূল নেতারা ফুলে-ফেঁপে উঠেছে কিন্তু সাধারন মানুষ সমস্ত সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আর এই কথায় অনুব্রত মণ্ডলের সামনে বলতে গেলে তিনি কাউকে পথ থেকে সরিয়ে দিচ্ছেন তো কারো কাছ থেকে মাইক কেড়ে নিচ্ছেন । কিন্তু এইভাবে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা যাবে না । আর এই জন্যই ২০২১ এ বিজেপি ক্ষমতায় আসবে।