নয়াদিল্লি: আবারও ভেস্তে গেল শান্তি স্থাপনের বৈঠক। আর তার পরই পাকিস্তানকে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি আফগানিস্তানের। বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার জন্য ইসলামাবাদ ও তালিবান নেতৃত্ব পরস্পরকে দোষারোপ করছেন। তবে সরাসরি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তালিবান। (Pakistan-Afghanistan Conflict)

Continues below advertisement

সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর তুরস্ক ও কাতারের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে শান্তি-বৈঠক শুরু হয়। তুরস্কের ইস্তানবুলে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছিল। কিন্তু সনাধানসূত্র বেরনোর আগেই সেই বৈঠক ভেস্তে গিয়েছে। (Pakistan-Afghanistan Tensions)

আর তার পরই আফগানিস্তানের তালিবান সরকার বিবৃতি দিয়ে সরাসরি পাকিস্তানের দিকে আঙুল তুলেছে। পাকিস্তান এই শান্তি-বৈঠকে গোড়া থেকেই বাধা সৃষ্টি করছিল, দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো আচরণ করছিল বলে অভিযোগ তাদের।

Continues below advertisement

আফগানিস্তানে তালিবান সরকারের মুখপাত্র জবিহুল্লা মুজাহিদ শনিবার কড়া ভাষায় পাকিস্তানের নিন্দা করেছেন। শান্তি-বৈঠকে মধ্যস্থতা কারর জন্য তুরস্ক ও কাতারকে ধন্যবাদ জানালেও, পাকিস্তানের আচরণকে তিনি ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ এবং ‘অসহযোগিতাপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, “না নিজের, না আফগানিস্তানের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবিত ইসলামাবাদ। মৌলিক সমাধান বের করতে বৈঠকে যোগ দেওয়া হলেও, পাকিস্তানের আচরণে সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।”

আফগান সরকারের হয়ে জবিহুল্লা জানান, অন্য দেশের বিরুদ্ধে তাঁদের দেশের মাটি ব্যবহার করতে পারবে না কোনও দেষ। আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব এবং স্বাধীনতার বিরুদ্ধাচারণ করতে দেওয়া হবে না কাউকে। তিনি জানান, আফগান নাগরিকদের নিরাপত্তা প্রদান করা এবং দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা শুধুমাত্র ইসলামি নীতি নিয়ম অনুযায়ীই তাঁদের কর্তব্য নয়, জাতীয় কর্তব্যও। কেউ আগ্রাসন দেখাতে এলে, “আল্লাহ্ এবং দেশের মানুষের সহযোগে কড়া হাতে তার মোকাবিলা করা হবে।”

আফগানিস্তানের সঙ্গে তৃতীয় দফার বৈঠকও ভেস্তে গিয়েছে বলে মেনে নিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা আসিফ। আপাতত চতুর্থ দফার বৈঠকের পরিকল্পনা নেই বলেও জানান তিনি। তবে আফগানিস্তানের উপজাতি, সীমান্ত বিষয়ক মন্ত্রী নুরউল্লাহ্ নুরি কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আফগানিস্তানের ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না। নিজেদের প্রযুক্তি নিয়ে বেশি আত্মবিশঅবাস দেখাবেন না। যুদ্ধ পরিস্থিতি দেখা দিলে আফগানিস্তানের প্রবীণ, নবীন, সব নাগরিকই এগিয়ে আসবেন।” অন্য দিকে, জবিহুল্লার দাবি, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের সমস্যা নতুন কিছু নয়,সেই ২০০২ সাল থেকে চলে আসছে। আফগানিস্তানে তালিবান সরকার প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর এই সমস্যা মাথাচাড়া দেয়নি মোটেই। দুই পক্ষের মধ্যে মীমাংসা হয় যাতে, সেই চেষ্টাও করেছিল আফগানিস্তান। কিন্তু পাক সেনা তা হতে দেয়নি।