Pakistan Flood : 'শতাব্দীর সবচেয়ে বড়' বন্যার কবলে পাকিস্তান, জীবনসঙ্কটে ২০ লক্ষ মানুষ, শয়ে শয়ে মৃত্যু
বিপসঙ্কুল এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে । শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুলিশ এবং নিরাপত্তা সুবিধাগুলিকে উদ্ধার শিবির হিসেবে ব্যবহার করছে।

গত ১০০ বছরে বোধ হয় এমন বিধ্বংসী বন্যা দেখেনি পাকিস্তান। ভেসে যাচ্ছে পূর্বাঞ্চলীয় পাঞ্জাব প্রদেশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি এখন পাকিস্তান। নদীগুলোর জলস্তর রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে। বিপদসীমার বহু উপর দিয়ে বইছে জল। জীবন সঙ্কটে লক্ষ লক্ষ প্রাণ। একসঙ্গে প্লাবন দেখা দিয়েছে বহু নদীতে। জলে ভেসে যাচ্ছে একের পর এক গ্রাম। মাথার উপর ছাদ, জিনিস পত্র, সহায় সম্বল সবটুকু গেছে ভেসে। লক্ষ লক্ষ মানুষ চরম অনিশ্চয়তায়। পাকিস্তানে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা পঞ্জাব প্রদেশে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিপসঙ্কুল এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে । শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুলিশ এবং নিরাপত্তা সুবিধাগুলিকে উদ্ধার শিবির হিসেবে ব্যবহার করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভয়ঙ্কর এই বন্যার জন্য অনেকটাই দায়ী জলবায়ু পরিবর্তন। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের জেরে. পাকিস্তানে এই বছর অস্বাভাবিক বেশি বৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি দেখা গিয়েছে, মুষলধারে বৃষ্টিপাত এবং মেঘ ভাঙা বৃষ্টির ফলে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমের পাহাড়ি অঞ্চলে একের পর এক হড়পা বান এবং ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। পঞ্জাবপ্রদেশের সিনিয়র মন্ত্রী মরিয়ম আওরঙ্গজেব জানিয়েছেন, পাঞ্জাবের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বন্যা হয়েছে এই বছর। বন্যায় ২০ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত । এই প্রথমবার, একসঙ্গে প্লাবন ঘটিয়েছে শতদ্রু, চেনাব এবং রাভি।
পাকিস্তানের সরকারি সূত্রে দাবি, ২৬ জুন থেকে ক্রমবর্ধমান বিপর্যয়ের জেরে দেশে ৮৪৯ জন নিহত এবং ১,১৩০ জন আহত হয়েছে। দক্ষিণ সিন্ধু প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মুরাদ আলি শাহ জানিয়েছেন, তিনি সেচ বিভাগকে "সুপার ফ্লাড" এর জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের তরফে জানানো হয়েছে, ২০ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। ২০০০ টিরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্রায় ৭ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষ , ৫ লক্ষ ১৬ হাজার পশুপাখিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে । এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে কমপক্ষে ৩৩ জন মারা গিয়েছেন।
গত মাসেই খাইবার পাখতুনখোয়ায় লাগাতার বর্ষণের জেরে ভূমিধস নামে। সাঙ্ঘাতিক এই বিপর্যয় ও টানা বর্ষণে চূড়ান্ত ক্ষতির শিকার হয় ওই এলাকা। কয়েক দিনের মধ্যে ওই প্রদেশেই অন্তত ৪০০ জন মারা যান। সংখ্যাটা আপও বেশি বই কম নয়। পাকিস্তানের আবহাওয়া বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসনগুলিকে সতর্ক করে রেখেছে।






















