নয়াদিল্লি: ছোট ব্যবসায়ীদের সুরাহা দিতে একদিনে জোড়া সিদ্ধান্ত নিল জিএসটি কাউন্সিল। একদিকে, কর ছাড়ের ঊর্ধ্বসীমা যেমন দ্বিগুণ করা হল, তেমনই কম্পোজিশন স্কিমের ছাড়ও বৃদ্ধি করা হল। আগামী ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে এই নতুন নিয়ম। বৃহস্পতিবার, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি জানান, বার্ষিক টার্নওভার ৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ছোট ব্যবসাগুলিকে জিএসটি-র তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হল। এই ঊর্ধ্বসীমা উত্তর-পূর্বাঞ্চল বাদ দিয়ে দেশের সর্বত্র কার্যকর হবে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ক্ষেত্রে এই ঊর্ধ্বসীমা ২০ লক্ষ টাকা। বর্তমানে দেশের বাকি ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ক্ষেত্রে এই ছাড়ের ঊর্ধ্বসীমা যথাক্রমে ২০ লক্ষ ও ১০ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ, ছাড়ের ঊর্ধ্বসীমা এক লপ্তে দ্বিগুণ করা হল। কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবি, যদি সব রাজ্য এই প্রস্তাবে সায় দেয়, তাহলে এই অতিরিক্ত ছাড়ের ফলে কেন্দ্রের রাজস্ব ক্ষতি হবে ৫২০০ কোটি টাকা।

এর পাশাপাশি, জিএসটি কম্পোজিশন স্কিমের ছাড়ও বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাউন্সিল। এতদিন বার্ষিক ১ কোটি টাকা বা তার বেশি টার্নওভার হলে, ব্যবসায়ী বা সংস্থাকে ১ শতাংশ কর দিতে হতো। এখন সেই ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে দেড় কোটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জিএসটি কাউন্সিল। এছাড়া, বার্ষিক ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার থাকা পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা ও সাপ্লায়ারদের সামনে ২টি বিকল্প তৈরি করা হয়েছে। প্রথমত, হয় জিএসটি কম্পোজিশনের আওতায় আসতে পারেন। দ্বিতীয়ত, তারা সরাসরি ৬ শতাংশ কর দিতে পারেন। কম্পোজিশন স্কিমের এই ছাড়ের ফলে, কেন্দ্রের রাজকোষে ৩০০০ কোটি টাকা কম ঢুকবে। জেটলি জানান, এদিন যে ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তাতে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের (এমএসএমই) অনেকটাই স্বস্তি হবে। এদিকে, রিয়েল এস্টেট (নির্মাণশিল্প) ও লটারিকে জিএসটি-র তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে এখনও সহমতে পৌঁছতে পারল না পরিষদ। এদিনের বৈঠকে স্থির হয়েছে এই বিষয়ে সিদ্ধান্তগ্রহণের জন্য সাত-সদস্যের মন্ত্রিগোষ্ঠী গঠন করা হবে।