নয়া দিল্লি: ফের অসুস্থ কংগ্রেসনেত্রী সনিয়া গাঁধী। জানুয়ারির পর ফের একবার দিল্লির স্যর গঙ্গারাম হাসপাতালে ভর্তি হতে হল তাঁকে। মঙ্গলবার আচমকা অসুস্থ বোধ করেন তিনি। তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সঙ্গে ছিলেন ছেলে রাহুল গাঁধী এবং মেয়ে প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা। হাসপাতালের তরফে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তাঁর শ্বাসকষ্টের সমস্যা কিছুটা বেড়েছিল। তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়েছে। ঠান্ডা এবং দূষণের জন্যই এই সমস্যা বলে জানিয়েছে হাসপাতাল।
গত জানুয়ারিতেও একবার অসুস্থ হয়ে পড়েন সনিয়া। তাঁকে ছ’দিন ধরে স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়েছিল। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরেও তাঁর চিকিৎসা চলছিল তাঁর বাসভবনে। গত ৫ জানুয়ারি, ২০২৬-এর রাতে প্রায় ১০টা নাগাদ স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল সনিয়াকে। তখনও চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, ভয়ঙ্কর দূষণ এবং ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণেই তিনি অসুস্থ বোধ করেন। শ্বাসকষ্ট হওয়ায় তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। পরীক্ষার পরে ডাক্তাররা নিশ্চিত করেন, তাঁর ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা সামান্য বেড়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকরা আরও জানিয়েছেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় তাঁর পেট বা মূত্রনালীর সংক্রমণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একটি দল তাঁর অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তাঁকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে এবং এতে তাৎক্ষণিক উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, , চিকিৎসকদের একটি দল তার স্বাস্থ্যের ওপর সবসময় নজর রাখছে এবং অ্যান্টিবায়োটিকসহ প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দেওয়া হয়েছে। তবে হাসপাতাল জানাচ্ছে, সনিয়ার অবস্থা গুরুতর নয়। আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে এবং রিপোর্টগুলো পর্যালোচনা করার পর ডাক্তাররা পরবর্তী চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবেন।
আগেও চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছিলেন সোনিয়া গাঁধী
৭৯ বছর বয়সী কংগ্রেস নেত্রী সনিয়ার কাশির সমস্যা বেশ পুরনো। তিনি নিয়মিত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানেই থাকেন। গত বছর ৭ জুন, হিমাচল প্রদেশের সফরে যাওয়ার সময় তাঁর শরীর খুব খারাপ হয়ে পড়ে। সেই সময় সোনিয়া শিমলায় তাঁর মেয়ে প্রিয়াঙ্কা গাঁধী বঢ়রার বাড়িতে ছিলেন। সেই সময় তাঁকে শিমলার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিমলা থেকে দিল্লি ফেরার পরে তাঁকে স্যার গঙ্গারাম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
