কলকাতা: পঞ্চায়েতে দরাজহস্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনটি স্তরের নির্বাচিত সদস্যদের আনা হচ্ছে সাম্মানিক ভাতার আওতায়। সুবিধা মিলবে পয়লা মার্চ থেকে। পঞ্চায়েত সম্মেলনে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর। ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচন। তার আগে কাজ নিয়ে কড়া বার্তা যেমন দিলেন, তেমনই, পঞ্চায়েতকে মুখ্যমন্ত্রী দিলেন মমতা-স্পর্শ। শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আগামী মার্চ মাস থেকে গ্রামসভা, গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরা মাসিক দেড় হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। ২ হাজার টাকার পরিবর্তে পঞ্চায়েত প্রধান পাবেন ৩ হাজার টাকা। উপ প্রধানের ভাতা দেড় হাজার বেড়ে হচ্ছে ২ হাজার টাকা। এতদিন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ভাতা-বাবদ পেতেন ২৮০০ টাকা। সেটা বেড়ে হচ্ছে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। সাড়ে ৩ হাজার টাকার পরিবর্তে ৫ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি। সহকারী সভাধিপতির ভাতা ৩২০০ টাকা থেকে বেড়ে হচ্ছে ৪ হাজার টাকা। এখন থেকে মাসে ৪ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষরা। আগে তাঁরা পেতেন ৩ হাজার। এতদিন জেলা পরিষদের সদস্যদের জন্য কোনও ভাতার ব্যবস্থা ছিল না। তাঁরাও এবার পাবেন দেড় হাজার টাকা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ৩৫ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা পঞ্চায়েতের ওপর ভিত্তি করে ছিল। আমার অবাক লাগে, যারা পঞ্চায়েতের সদস্য তারা ভাতা পায় না। বিনে পয়সায় কাজ! তাদেরও সংসার আছে। ঘরের খেয়ে কেউ বনে মোষ তাড়ায়? বামেদের পাল্টা প্রশ্ন, বাজেট অধিবেশন শুরুর দিন কী করে, বিধানসভার বাইরে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী? বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীর দাবি, রাজ্যপাল যেখানে ভাষণ দিলেন, তার কয়েকশো মিটার দূরে মুখ্যমন্ত্রী। কী করে তিনি এটা করতে পারেন? পঞ্চায়েত সম্মেলনের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এবার স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় আসবেন ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের প্রত্যেক সদস্য, পদাধিকারীরা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকারি কর্মীদের মতো আপনাদেরও আনলাম। এখন থেকে আপনাদের পরিবারের স্বাস্থ্যের দায়িত্ব সরকারের। তাহলে মন দিয়ে কাজ করতে পারবেন। কারণ আপনারাই রাজ্যের পিলার। ভাল কাজের জন্য এদিন, বেশ কিছু পঞ্চায়েতের হাতে পুরস্কারও তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, পঞ্চায়েত স্তরে স্বচ্ছতার বার্তাও দেন তিনি।