বর্ধমান: কেউ তাড়া খেয়ে পালাতে চেয়েছিলেন। কেউ সামনে পড়ে গিয়েছিলেন। হাতির রোষে সবারই মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে। আতঙ্কে দুর্গাপুর থেকে পাণ্ডবেশ্বর। ২ জনের মৃত্যু! আহত ৭ জন! আবারও ফিরল সেই পুরনো আতঙ্ক! হাতির তাণ্ডবে সিঁটিয়ে আছে আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল! বৃহস্পতিবার সন্ধেয়, পাণ্ডবেশ্বরের রামনগর গ্রামে ঢোকে ৩টি হাতি। তাড়া খেয়ে পালাতে গিয়ে ৪ জন গ্রামবাসী জখম হন। আহত হন ২ বনকর্মী। গুরুতর আহত হয়ে শনিবার মারা যান বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তারক্ষী ছোটন পাসওয়ান। এরপর হাতি তাড়াতে আসরে নামে স্থানীয়রা। এলাকায় জ্বলে ওঠে মশাল! তাড়া খেয়ে ৩টি হাতি আলাদা হয়ে যায়। শুক্রবার তাদের মধ্যেই একটি হাতি দুর্গাপুর শহরে ঢুকে পড়ে! তাণ্ডব চালায় গোপালমাঠ এলাকায়। জখম হন ২ জন। চেষ্টার কসুর হয়নি, কিন্তু তাতেও থামানো যায়নি হাতির তাণ্ডব। আচমকাই হাতিটি দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের মধ্যে ঢুকে পড়ে। সামনে পড়ে যান ঠিকা শ্রমিক শ্যামাপদ ঘোষ। ব্যাস! সঙ্গে সঙ্গে শুঁড়ে জড়িয়ে আছাড়! এখনও হাসপাতালে ভর্তি ওই ব্যক্তি। অভিযান আরও তীব্র করে বন দফতর। কিন্তু তাতে হিতে বিপরীত হয়। কোকওভেন থানা এলাকার বিদ্যাসাগর পল্লিতে, হাতির সামনে পড়ে যান এক প্রৌঢ়া! তাড়া খেয়ে পালাতে গিয়ে মৃত্যু হয় দুর্গা বিশ্বাসের। এরপর শুক্রবার রাতে, ওই হাতিটিকে দামোদর পার করে বাঁকুড়ার দিকে পাঠিয়ে দেন বনকর্মীরা। কিন্তু আরেকটি হাতি, শনিবার দুর্গাপুর এবিএল টাউনশিপ লাগোয়া জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। মাঝরাতে ২ নম্বর জাতীয় সড়ক পেরিয়ে, সে ঢুকে পড়ে বন্ধ হিন্দুস্তান ফার্টিলাইজার লাগোয়া জঙ্গলে। বন দফতর সূত্রে দাবি, তৃতীয় হাতিটি কাঁকসা হয়ে বর্ধমানের দিকে চলে গিয়েছে। কিন্তু আতঙ্ক পিছু ছাড়েনি খনি অঞ্চলের। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ঝাঁপ নামছে দোকানে। নতুন করে হাতির হানার আশঙ্কায় কাঁটা হয়ে আছেন দুর্গাপুরের বাসিন্দারাও। বন দফতর সূত্রে দাবি, জেলার বর্ধমান ডিভিশনে গত বছর হাতির হানায় মারা গিয়েছেন ৬ জন। আহত ৭। আসানসোল দুর্গাপুর ডিভিশনে, গত বছর মৃতের সংখ্যা ১ জন। এ বছর এখনও পর্যন্ত ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু প্রাণহানিই নয়, হাতির তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গিয়েছে ‘জমির পর জমি’। নষ্ট হয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফসল।