কলকাতা: লোকসভা ভোটের পাশাপাশি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনও? পূর্ব বর্ধমানে রাজ্য কমিটির সভা থেকে এই জল্পনা উস্কে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। কিন্তু, হঠাৎ এমন সম্ভাবনার কথা কেন? দিলীপ ঘোষের মতে, এটাকে (দুই নির্বাচন একসঙ্গে) গতি দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে তৃণমূল। পুলিশকে মারছে। মানুষের ক্ষোভ রাস্তায় আছড়ে পড়ছে। সম্প্রতি তিন দিনের রাজ্য সফরে এসে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ রাজ্য নেতৃত্বের সামনে টার্গেট বেঁধে দিয়ে গেছেন। গতমাসেই তিনি বলে গিয়েছেন, ২০১৯ সালে মোদীর জয়রথ এরাজ্যে আসবে। এই প্রেক্ষিতে দিলীপ ঘোষের মুখে একসঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা ভোটের সম্ভাবনার কথা বিভিন্ন মহলে জল্পনার পারদ চড়িয়েছে। যদিও, তৃণমূল এতে গুরুত্ব দিতে নারাজ। গেরুয়া শিবিরের দিকে পাল্টা চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছে তারা। দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ করতে চাইছে? আমরা হতে দেব না। মানুষ হতে দেবে না। বিজেপির রাজ্য সভাপতি এদিন রাজ্য কমিটির বৈঠক থেকে বারবারই তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেছেন। দিলীপ ঘোষ বলেন, ২০০৯-১০ এ পরিবর্তনের আগে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। মানুষ তৃণমূলকে ৫ বছর সময় দিয়েছে। এরা পারেনি। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। মানুষ বিকল্প খুঁজছে। বিজেপির বিরুদ্ধে পাল্টা সুর চড়িয়েছে তৃণমূলও। পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, মানুষের জন্য নয়, গদির লড়াই করছে। পদ্ম ফোটাতে চাইছে না। পাপড়িও ফুটবে না। সিপিএম-কংগ্রেসের মতো বিরোধী দলগুলি অবশ্য তৃণমূল-বিজেপির এই বাগযুদ্ধের আড়ালে আঁতাঁতের অভিযোগে সরব। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর দাবি, তৃণমূলই সিপিএম-কংগ্রেসকে মেরে ভ্যাকুয়াম তৈরি করেছে। বিজেপিকে জায়গা করে দিতে। একই সুর বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর গলাতেও। তিনি বলেন, বিজেপি যা বলছে, তৃণমূলের সঙ্গে পরামর্শ করে বলছে। তৃণমূলের দোসর বিজেপি। সব মিলিয়ে লোকসভা ভোটের দু’বছর বাকি থাকতেই, তৃণমূল-বিজেপি বাগযুদ্ধ সপ্তমে।