নয়াদিল্লি: পথকুকুর নিয়ে বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। ক্ষিপ্ত বা জলাতঙ্কে আক্রান্ত এবং হিংস্র পথকুকুরদের ইঞ্জেকশন দিয়ে মেরে ফেলতে অনুমতি দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আগের নির্দেশে সংশোধন ঘটানোর জন্য একাধিক আবেদন জমা পড়েছিল। সেই নিয়ে শুনানিতেই মঙ্গলবার ক্ষিপ্ত এবং আগ্রাসী পথকুকুরদের ওষুধ-ইঞ্জেকশন প্রয়োগ করে মেরে ফেলায় অনুমতি দেওয়া হল। (Stray Dogs Euthanasia)

Continues below advertisement

মঙ্গলবার শুনানি চলাকালীন এই নির্দেশ দিল আদালত। বলা হয়েছে, পশুর জন্মহার নিয়ন্ত্রণ বিধি এবং সেই সংক্রান্ত প্রোটোকল মেনে, আইন অনুমোদিত উপায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে পারেন কর্তৃপক্ষ। নিরাময় সম্ভব নয়, এমন রোগে আক্রান্ত, জলাতঙ্কে আক্রান্ত, মানুষের জীবন এবং নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক/আগ্রাসী কুকুরদের ক্ষেত্রে  নিষ্কৃতিমৃত্যুর মতো পদক্ষেপ করা যাবে। (Supreme Court on Stray Dogs)

আরও পড়ুন: নতুন রাজনৈতিক দলের সূচনা ভারতে, শুরুতেই যোগ দিলেন তৃণমূলের দুই হাই-প্রোফাইল সাংসদ, এল ৫ দফার ইস্তেহারও

Continues below advertisement

পথকুকুর নিয়ে মামলার টাইমলাইন-

  • এর আগে, ২০২৫ সালে পথকুকুরের হামলা নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা গ্রহণ করে আদালত।
  • ২০২৫ সালের ১১ অগাস্ট ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয় যে, দিল্লি এবং সংলগ্ন এলাকা থেকে পথকুকুরদের সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আট সপ্তাহের মধ্যে সরিয়ে নিয় গিয়ে রাখতে হবে শেলটার হোমে। সেখান থেকে আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। 
  • সেই নিয়ে প্রতিবাদন, আন্দোলন শুরু হলে, ওই বছর ২২ অগাস্ট তিন বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চ আগের রায় সংশোধন করে। পথকুকুরদের নির্বীজকরণ এবং টিকাকরণের পর লোকালয়ে ফেরানো যাবে বলে জানানো হয়। তবে হিংস্র, অসুস্থ পথকুকুরদের খাওয়ানোর জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করে দিতে বলা হয়। 
  • গত বছর ৭ নভেম্বর সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে বলা হয়, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়াঙ্গন, বাস ডিপো, রেল স্টেশন থেকে পথকুকুর সরাতে হবে। আট সপ্তাহের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া বসাতে বলা হয় শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে।
  • ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে বিভিন্ন NGO, কল্যাণ সংস্থাগুলির আবেদন নিয়ে শুনানি শুরু হয়। খতিয়ে দেখা হয় রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির ভূমিকাও।
  • গত ১৯ মে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। জানিয়ে দেওয়া হয়, পাবলিক ইনস্টিটিউশন থেকে সরাতে হবে পথকুকুর। নির্বীজকরণের পরও আগের জায়গায় ছেড়ে দেওয়া যাবে না।
  • ১৯ মে আদালত জানাল, ক্ষিপ্ত এবং হিংস্র পথকুকুরদের মেরে ফেলা যাবে। আগের রায় সংশোধন করতে রাজি হল না আদালত। আবেদন খারিজ হল।

বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিটারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। একাধিক আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছে আদালতে। জনসমাগম রয়েছে যে সমস্ত জায়গায়, লেখানে পথকুকুরদের উপস্থিতি ‘উদ্বেগজনক’ বলেও জানিয়েছে আদালত। বিচারপতিরা জানান, এমন একাধিক ঘটনা রয়েছে, যেখানে পথকুকুর মানুষকে আক্রমণ করেছে, বিশেষ করে শিশুদের উপর আক্রমণ হয়েছে। সেগুলিকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। 

আরও পড়ুন: এ কোন পরিবর্তনের হাওয়া পাকিস্তানে! আগের পরিচয় ফিরে পেল লাহৌর, ইসলামপুর হল কৃষ্ণনগর, নামবদল বাবরি মসজিদ চকেরও

কুকুরে কামড়ানোর ঘটনা যেভাবে বেড়ে চলেছে, সেই নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত। বিচারপতিরা জানান, কুকুরে কামড়ানোর ঘটনা বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে শিশুদের এবং বয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছেন। এর আগে, জনসমাগম রয়েছে, এমন জায়গা থেকে পথকুকুরদের সরানোর নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। সেই নির্দেশে সংশোধন ঘটাতে রাজি হননি বিচারপতিরা। বরং আদালতের আগের নির্দেশ পালন না করা নিয়ে রাজ্যগুলিকে ভর্ৎসনাও করা হয়। 

এর আগে, গত বছর হাসপাতাল, পার্ক, রেলস্টেশনের মতো জায়গা থেকে পথকুকুরদের সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। এমনকি নির্বীজকরণের পরও প্রকাশ্যে ছেড়ে দেওয়া যাবে না বলে নির্দেশ ছিল। প্রকাশ্যে কুকুরকে খাওয়ানোর উপরও বিধিনিষেধ আরোপ করে আদালত। নির্দিষ্ট জায়গাতেই কুকুরকে খাওয়ানো যাবে বলে জানানো হয়েছিল সেই সময়। আদালতের সেই নির্দেশ সংশোধনের আর্জি নিয়েই ফের আবেদন জানিয়েছিলেন সমাজকর্মী থেকে বিভিন্ন অলাভজনক সংস্থা।