Uttar Pradesh News: ১৭ বছরের নাতিকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে উত্তরপ্রদেশের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ধড় থেকে মাথা কেটে ওই ব্যক্তি তাঁর নাতিকে খুন করেছেন বলে অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে খবর, খুনের পর নাতির দেহাংশ বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দিয়েছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। পুলিশ জানিয়েছে, এক তান্ত্রিক ওই ব্যক্তিকে এই পরামর্শ দিয়েছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, এই অভিযুক্তের নাম শরণ সিং। প্রয়াগরাজের করেলি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ওই তান্ত্রিক নিহত কিশোরের ঠাকুরদা অর্থাৎ শরণ সিংয়ের সম্পর্কে ভাই হন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত কিশোরের নাম পীযূষ। পুলিশের দাবি, জেরায় ধৃত শরণ সিং স্বীকার করেছেন যে, তিনিই নাতিকে খুন করেছেন এবং খুনের উদ্দেশ্যও জানিয়েছেন। 

একাদশ শ্রেণির ছাত্র পীযূষ মঙ্গলবার আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যায়। স্কুলে যাবে বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল সে। কিন্তু তারপর আর বাড়িতে ফেরেনি। ছেলের চিন্তায় অস্থির হয়ে স্কুলে যান কিশোরের মা কামিনী দেবী। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, পীযূষ মঙ্গলবার স্কুলে আসেইনি। এরপর করেলি থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন তিনি। অভিযোগ পাওয়ার পরই জোরকদমে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মঙ্গলবারই নৈনি কারখানা এলাকার একটি ড্রেন থেকে একটি ধড় উদ্ধার করে পুলিশ। মাথার হদিশ না থাকায় সেই সময় ধড়ের শনাক্তকরণ সম্ভব হয়নি। বুধবার পুলিশ গ্রেফতার করে অভিযুক্ত শরণ সিংকে। জেরায় তিনি নাতি পীযূষকে খুনের কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের। 

কেন এই ব্যক্তি খুন করলেন তাঁর নাতিকে, তাও এমন নৃশংস ভাবে ? 

পুলিশ জানতে পেরেছে, ২০২৩ এবং ২০২৪ পরপর দুই বছর শরণ সিং- এর ছেলে এবং মেয়ের মৃত্যু হয়েছিল। দু'জনেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন। সন্তান শোকে এক তান্ত্রিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন শরণ। কেন এভাবে তাঁর পুত্র এবং কন্যা মারা গেল, জানতে চান তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই তান্ত্রিক সেই সময় শরণ সিংকে বলেন, আসলে মারা যাওয়ার কথা ছিল পীযূষের। কিন্তু তার মৃত্যু না হওয়ায়, শরণের নিজের ছেলে এবং মেয়ের মৃত্যু হয়েছিল। এরপরই নাতিকে মেরে ফেলার মতো সাংঘাতিক পরামর্শ ওই তান্ত্রিক দিয়েছিলেন শরণ সিংকে। সম্পর্কে ভাই হওয়া তান্ত্রিকের পরামর্শ নিয়ে নাতিকে নৃশংস ভাবে খুন করেন তার দাদু। ধৃতকে আরও জিজ্ঞসাবাদ করছে পুলিশ।