নয়াদিল্লি: বেআইনি ভারতীয় অভিবাসীদের ফেরত পাঠাল আমেরিকা। পঞ্জাবের অমৃতসরে নামল ভারতীয় অভিবাসী বোঝাই আমেরিকার সেনার বিমান। মোট ১০৪ জন ভারতীয় অভিবাসী রয়েছেন ওই বিমানে। আমেরিকাকে অভিবাসী মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েই দ্বিতীয় বার আমেরিকায় ক্ষমতায় এসেছেন ট্রাম্প। আর তার পর থেকেই বৈধ কাগজপত্র না থাকা অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। সেই মতো বুধবার অমৃতসরে ভারতীয় অভিবাসীদের নিয়ে নামল আমেরিকার সেনার C-17 বিমান। (Indians Deported)


ভারতীয় অভিবাসীদের নিয়ে গতকাল টেক্সাস ছাড়ে আমেরিকার সেনার বিমানটি। বুধবার দুপুর ১টা বেজে ৫৫ মিনিটে অমৃতসরে নামে সেটি। জানা গিয়েছে, বিমানে থাকা ভারতীয় অভিবাসীদের পরিচয় যাচাই করা হয়েছে। অর্থাৎ দিল্লি এব্যাপারে পূর্ণ সহযোগিতা করেছে আমেরিকাকে। এই প্রথম ভারতীয় অভিবাসীদের ফেরত পাঠাল ট্রাম্প সরকার। আগামী দিনে আরও একাধিক বিমানে চাপিয়ে ভারতীয় অভিবাসীদের ফেরত পাঠাবে আমেরিকা। (Indians Deported from US)


এদিন যাঁরা আমেরিকা থেকে ফিরলেন, তাঁদের মধ্যে হরিয়ানা, গুজরাত থেকে ৩০ জন করে রয়েছেন। ৩০ জন পঞ্জাবেরই বাসিন্দা। ২৫ জন মহিলা রয়েছেন, ১২ জন শিশু। চার বছর বয়সি এক শিশুও রয়েছে। ৪৮ জনের বয়স ২৫ বছরের নীচে। 


দ্বিতীয় বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে নাম লিখিয়েই আমেরিকাকে অভিবাসী মুক্ত করার ডাক দিয়েছিলেন ট্রাম্প। বিশেষ করে ভারত, চিন, মেক্সিকো থেকে আমেরিকায় প্রবেশকারীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কথা শোনা গিয়েছিল তাঁর মুখে। ক্ষমতায় এসেই সেই কাজে হাত দিয়েছেন ট্রাম্প। গুয়াতেমালা, পেরু, হন্ডুরাসের থেকে আমেরিকায় প্রবেশকারী অভিবাসীদেরও ফেরত পাঠানো হয়েছে ইতিমধ্যেই।



তবে আমেরিকা থেকে ভারতীয় অভিবাসীদের যে সময় ফেরত পাঠানো হল, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের শপথগ্রহণে মোদিকে দেখা না গেলেও, আগামী সপ্তাহেই আমেরিকা যাচ্ছেন মোদি। সেখানে দু’জনের মধ্যে বৈঠক রয়েছে। বেআইনি অভিবাসী নিয়ে যা করণীয়, ভারত তা-ই করবে বলে আগেই জানান ট্রাম্প। তাঁদের বৈঠকেও এ নিয়ে আলোচনা হয় কি না, তা দেখতে মুখিয়ে কূটনৈতিক মহল।


এখনও পর্যন্ত যে পরিসংখ্যান সামনে আসছে, সেই অনুযায়ী, আমেরিকায় বেআইনি ভাবে প্রবেশকারী ১৮ হাজার ভারতীয়কে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, বেআইনি ভাবে আমেরিকায় গিয়েছিলেন যাঁরা, তাঁদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত ভারত। যদিও এই গোটা পর্বে দুই দেসের পারস্পরিক বোঝাপড়া নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে দিল্লিকে।