নয়াদিল্লি: লোহিত সাগরে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা। আর তার জেরে বড় ক্ষতি হয়ে গেল আমেরিকার। তাদের একটি যুদ্ধবিমান কেরিয়ার থেকে পড়ে তলিয়ে গেল সাগরের নীচে। এক কোটি বা দু’কোটি নয়, বিমানটির দাম ছিল ৬৭ মিলিয়ন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যা ৫৭১ কোটি টাকার বেশি। দুর্ঘটনায় এক নাবিক আহত হয়েছেন বলেও খবর। (US Warplane Rolls off Carrier)

সোমবার লোহিত সাগরের উপর এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে আমেরিকার নৌবাহিনী। সেখানে তাদের Harry S. Truman বিমান কেরিয়ারটি মোতায়েন ছিল। সেখানেই দুর্ঘটনা ঘটে যায়। F/A-18E যুদ্ধবিমানটি কেরিয়ার থেকে ছিটকে সাগরে পড়ে যায়। সেই সঙ্গে বিমানটিকে টানার কাজে যে ট্র্যাক্টর মোতায়েন ছিল, সেটিও জলে পড়ে যায় বলে জানা গিয়েছে। (Red Sea)

এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ট্র্যাক্টর দিয়ে হ্য়াঙ্গার বে থেকে টেনে কেরিয়ারে তোলা হচ্ছিল যুদ্ধবিমানটিকে। সেই সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন কর্মীরা। আর তাতেই বিমান গড়িয়ে লোহিত সাগরে পড়ে যায়। পড়ে যায় ট্র্যাক্টরটিও। যুদ্ধবিমানটি লোহিত সাগরের একেবারে ডুবে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। দুর্ঘটনার সময় যুদ্ধবিমানটিতে দু’জন সওয়ার ছিলেন। কোনও রকমে লাফ দিয়ে বেরিয়ে আসেন তাঁরা। তাঁদের মধ্যে এক জন আহত হয়েছেন।

কেরিয়ার এবং অন্য বিমানগুলি ঠিক আছে বলে জানিয়েছে আমেরিকার নৌবাহিনী। কিন্তু গোটা ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। এতবড় দুর্ঘটনা ঘটল কেন, কার গাফিলতি ছিল, অন্য কোনও কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধবিমানটিকে তুলে আনার নিয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি এখনও পর্যন্ত। তবে বিমানটি একেবারে লোহিত সাগরে তলিয়ে গিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

এই নিয়ে গত ছ’মাসে দু’-দু’টি F/A-18 যুদ্ধবিমান হারাল আমেরিকা। Harry S. Truman কেরিয়ার থেকেই দু’টি দুর্ঘটনা ঘটল। এর আগে, গতবছর একটি যুদ্ধবিমানকে ভুলবশত ক্ষেপণাস্ত্র ছু়ড়ে নামানো হয়। পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ বহনকারী অন্যতম কেরিয়ার হল Harry S. Truman. সেখান থেকেই ইয়েমেনের সশস্ত্র সংগঠন হুথি-র মোকাবিলা করে আসছে আমেরিকা। গত বছর সেপ্টেম্বর মাস থেকে লোহিত সাগরে মোতায়েন রয়েছে Harry S. Truman কেরিয়ারটি।  হুথি-র আক্রমণ থেকে জাহাজগুলিকে রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে সেটি।