লখনউ: প্রায় চার দশকের প্রথা ভেঙে এবার আয়কর দেবেন উত্তরপ্রদেশের সব মন্ত্রীরা। ইনকাম ট্যাক্স জমা দেবেন মুখ্যমন্ত্রীও। সংবাদমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠার পর ১৯৮১ সাল থেকে চলে আসা আইন বাতিল হতে চলেছে। ওই আইন অনুসারে উত্তরপ্রদেশের কোনও মন্ত্রীকে এতদিন আয়কর দিতে হত না। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী সুরেশ কুমার খান্না এই কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশেই এখন থেকে সব মন্ত্রীরা নিজেদের আয়কর নিজেরাই দেবেন। উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রীদের বেতন, ভাতা ও বিবিধ আইন, ১৯৮১, অনুসারে তাঁদের এতদিন আয়কর জমা করতে হত না। বিশ্বনাথ প্রতাপ সিংহের আমলে এই আইন লাগু হয়। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ১০০০ মন্ত্রী এই আইনের সুবিধে ভোগ করেছেন! আয়কর জমা দেওয়া থেকে এতদিন ছাড় পেয়েছেন আদিত্যনাথ, মুলায়ম সিংহ যাদব, অখিলেশ যাদব, মায়াবতী, কল্যাণ সিংহ, রামপ্রকাশ গুপ্ত প্রমুখ মুখ্যমন্ত্রীরা। ১৯৮১তে এই আইন প্রণয়নের পিছনে যুক্তি ছিল, রাজ্যের বেশিরভাগ মন্ত্রীরাই দরিদ্র, তাই তাঁদের আয়কর দেবে রাজ্য সরকার। সূত্রের খবর, গত আর্থিক বছরে, রাজ্য সরকারকে মন্ত্রীদের আয়কর হিসেবে ৮৬ লাখ টাকা জমা করতে হয়। ১৯৮১ সালে যে যুক্তিতে এই আইন লাগু হয়েছিল, পরবর্তীতে বাস্তবে বিপরীত চিত্রই ধরা পড়ে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বসপা নেত্রী মায়াবতী, যাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ১১১ কোটি! সেই তথ্য ২০১২ সালে রাজ্যসভা ভোটে জমা দেওয়া নথি থেকেই পাওয়া গিয়েছে। অখিলেশ যাদব ও তাঁর স্ত্রীর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩৭ কোটি। ২০১৭য় বিধানসভা নির্বাচনের সময় দেওয়া তথ্য অনুসারে যোগীর সম্পত্তির পরিমান ৯৫ লাখ ৯৮ হাজার ৫৩ টাকা।