রায়পুর: ছত্তীসগঢ়ে বেদান্ত তাপবিদ্য়ুৎকেন্দ্রে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা। বয়লার ফেটে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটে বলে খবর। বিস্ফোরণে কমপক্ষে ন'জন মারা গিয়েছেন বলে খবর। গুরুতর আহত হয়েছেন ২০ জনের বেশি। তাঁদের অবস্থা সঙ্কটজনক। নিহতরা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মরত শ্রমিক বলে জানা গিয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। তবে স্থানীয়দের দাবি, বেশ কিছু দেহ বের করে আনা হয়েছে। এখনও অনেকে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিতরে আটকে বলে জানা যাচ্ছে। (Vedanta Power Plant Blast)
ছত্তীসগঢ়ের সকতী জেলার সিঙ্ঘিতরাই এলাকার ঘটনা। মঙ্গলবার দুপুর ২টো নাগাদ ওই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণের সময় তাপবিদ্য়ুৎ কেন্দ্রে, বয়লারের কাছে ৪০-৫০ জন বেশি শ্রমিক ছিলেন। কারাখানায় ছিলেন প্রায় ১০০০ শ্রমিক। স্থানীয় লোকজন তো বটেই, ওড়িশা, বিহার থেকেও সেখানে কাজ করেন অনেকে। বিস্ফোরণের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়ে যায় । পদপিষ্ট হওয়ার জোগাড় হয়। সাহায্য়ে এগিয়ে আসেন স্থানীয় মানুষজনও। আহতদের রায়পুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। (Power Plant Blast)
ঠিক কী ঘটেছে?
স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং দমকলবাহিনী টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। জানা গিয়েছে, এদিন শ্রমিকরা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিতরেই ছিলেন। সেই সময় হঠাৎই তীব্র শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। কুণ্ডলী পাকিয়ে ধোঁয়া আকাশে উঠতে শুরু করে। বয়লার ফাটার পর ঘটনাস্থলেই পাঁচ জন মারা যান বলে জানা গিয়েছে। মৃতদের মধ্যে দু'জন ধানবাদের বাসিন্দা বলেও খবর।
পুলিশ কী বলছে?
তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে বয়লার কী করে ফাটল,তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জরুরি বিভাগ। কারখানার শ্রমিকদের ভিতর থেকে বের করে আনা হয় এক এক করে। এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। এলাকার পুলিশ আধিকারিক, এস পি প্রফুল্ল ঠাকুর বলেন, "যত শ্রমিক ওখানে কাজ করছিলেন, তাঁদের বাইরে বের করছি আমরা,যাতে আর কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে। কড়া নজরদারি চলছে। জেলাশাসকের সঙ্গে কথা হয়েছে আমাদের।"
পুলিশ আরও জানিয়েছে, আপাতত কাউকে বিস্ফোরণস্থলে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। মেন লাইন বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। বয়লার ঠান্ডা হলে তবেই ভিতরে ঢোকা যাবে। তিনটি মৃতদেহ তাঁরা হাতে পেয়েছেন। তবে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন প্রফুল্ল। ভিতরে ঢুকলে আরও দেহ পাওয়া যেতে পারে বলেও মনে করছেন তাঁরা। প্রায় ১০০০ শ্রমিককে বাইরে বের করে আনা হয়েছে বলে জানান প্রফুল্ল। গুরুতর আহতদের রায়গড় হাসপাতাল পাঠানো হচ্ছে।
এখনও পর্যন্ত ন'জন মারা গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রফুল্ল। রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী লখনলাল দেবাঙ্গন সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, 'বেদান্ত প্লান্টে শিল্প-দুর্ঘটনায় শ্রমিকদের মৃত্যুর খবর হৃদয় বিদারক। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছি আমি। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি'। বয়লারের টিউব ফেটেই বিস্ফোরণ ঘটে বলে খবর। তবে আসল কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছত্তীসগঢ়ের শিল্প-কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তায় খামতি থাকার অভিযোগ যদিও নতুন নয়।
