ঘোষণা হল নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপকের নাম। নোবেল কমিটি জানাল, এবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাচ্ছেন, মারিয়া করিনা মাচাদো । ভেনিজুয়েলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রচারে তার অক্লান্ত পরিশ্রম এবং একনায়কতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণ রূপান্তর অর্জনের সংগ্রামের জন্য তাঁকে পুরস্কৃত করা হল।
শুক্রবার অসলোতে ঘোষণা করা হল মারিয়ার নাম। এ বছর কমিটির ভাবনায় ছিল ৩৩৮টি নাম। যার মধ্যে ২৪৪ জন ব্যক্তি এবং ৯৪টি সংস্থা। তার মধ্যে কমিটি বেছে নিল মারিয়া করিনা মাচাদোকে। নোবেল কমিটি ঘোষণায় জানিয়েছে,গণতন্ত্রের জন্য মারিয়ার অবিচল সংগ্রাম ও অহিংস প্রতিরোধ সারা বিশ্বের কাছে অনুপ্রেরণা। মারিয়া কোরিনা মাচাদো শুধু ভেনেজুয়েলায় নয়, বরং সারা বিশ্বের গণতন্ত্রকামী জনগণের কাছে অনুপ্রেরণা।
Súmate-র প্রতিষ্ঠাতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো, ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করেছেন, “গুলি-র বদলে ব্যালট” বেছে নিয়েছেন। স্বৈরাচারী শাসনের হুমকিকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়েছেন। সরব হয়েছেন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং জনগণের প্রতিনিধিত্বের জন্য। ২০২৪ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাধা পাওয়ার পরে, মাচাদো বিরোধী প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেজ উরুতিয়াকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন করেছিলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং চরম ঝুঁকির মধ্যে নাগরিকদের ভোটাধইকার রক্ষার জন্য কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবককে নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসাবে একত্রিত করেছিলেন।
ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্র আন্দোলনের নেতা হিসাবে তিনি গণতন্ত্রের মূল নীতিগুলি রক্ষা করেছেন। একটি নিষ্ঠুর স্বৈরাচারী শাসন, দেশের চরম দারিদ্র্য এবং ব্যাপক অভিবাসন সমস্যার মধ্যে মাচাদো নিজের লক্ষ্যে অবিচল থেকেছেন। লড়েছেন নির্বাচন কারচুপি, আইনি নিপীড়নের বিরুদ্ধে। বিরোধী কণ্ঠকে দমন করার বিরুদ্ধে অবিচল ছিলেন। এ বছর বারবার শান্তিপ্রতিষ্ঠার আত্মপ্রচার করে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । তবে শেষমেষ নোবেল কমিটি এবার বেছে নিল মারিয়াকেই।