নয়াদিল্লি: হাসপাতালে ভর্তি দেশের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়। দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস-এ ভর্তি রয়েছেন তিনি। বুকে ব্যথা হোয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে ৭৩ বছর বয়সি ধনকড়কে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, শনি-রবিবার গভীর রাতে, ২টো নাগাদ AIIMS-এ ভর্তি করা হয় ধনকড়কে। এই মুহূর্তে হাসপাতালের CCU-তে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি। (Jagdeep Dhankhar)

সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, রাতে হঠাৎই বুকে ব্যথা অনুভব করেন ধনকড়। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে AIIMS-এ নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসক রাজীব নারং ধনকড়কে পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান। চিকিৎসকদের টিম গঠন করা হয়েছে। তাঁরা সর্বক্ষণ নজর রাখছেন। আপাতত ধনকড়ের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা যাচ্ছে। তাঁকে দেখতে হাসপাতালে যান বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা। (Jagdeep Dhankar in Hospital)

ধনকড় কেমন আছেন, কী সমস্যা হয়েছে, এখনও সঠিক ভাবে জানা যায়নি। বিকেলে AIIMS-এর তরফে বিবৃতি দেওয়া হবে বলে খবর। এদিন ধনকড়কে দেখতে AIIMS-এ যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, 'AIIMS গিয়েছিলাম উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়কে দেখতে। ওঁর স্বাস্থ্যের খবর নিয়েছি। ওঁর সুস্বাস্থ্য কামনা করি, দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন'।

উপরাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালও ছিলেন ধনকড়। কিছুদিন আগেই রাজ্য সফরে এসেছিলেন তিনি। সস্ত্রীক তারাপীঠে গিয়ে পুজোও দেন। দেশের মঙ্গল কামনা করে সেখানে তিনি প্রার্থনা করেন বলে জানান। প্রায় ১৫ মিনিট মন্দিরের গর্ভগৃহে ছিলেন ধনকড়। মায়ের দর্শন সেরে অভিভূত বলে জানান তিনি এবং তাঁর স্ত্রী। ধনকড়ের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা যাচ্ছে।

জনতা দলের হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ ধনকড়ের। একসময় কংগ্রেসেও ছিলেন। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত রাজস্থানের ঝুনঝুনু থেকে জনতা দলের সাংসদ ছিলেন ধনকড়। ১৯৯১ সালে কংগ্রেসে যোগ দেন। সে বছর অজমেঢ়ে পরাজিত হন তিনি। পরে যদিও রাজস্থান বিধানসভায় জায়গা পান। ১৯৯৮ সালে ঝুনঝুনু থেকে ফের লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, কিন্তু তৃতীয় হন। ২০০৩ সালে বিজেপি-তে যোগ দেন ধনকড়। কিন্তু রাজনীতিতে খবরের শিরোনামে উঠে আসেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল নিযুক্ত হওয়ার পর। ২০১৯ সালের ৩০ জুলাই থেকে ২০২২ সালের ১৮ জুলাই পর্যন্ত ওই পদে আসীন ছিলেন তিনি। সেই সময় বার বার রাজ্যের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সঙ্গে সংঘাত বাধে তাঁর। পরিস্থিতি এমন হয় যে মমতা তাঁর বিরুদ্ধে সমান্তরাল সরকার চালানোর চেষ্টার অভিযোগ তোলেন। ২০২২ সালের ১১ অগাস্ট উপরাষ্ট্রপতি হন ধনকড়।