নয়াদিল্লি: অবশেষে পদত্যাগ করলেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দ্রা রাজাপক্ষে (Mahinda Rajapaksa)। ভয়াবহ অর্থনৈতিক সঙ্কটে জেরবার শ্রীলঙ্কা (Sri Lanka)। তার জেরেই এই পদত্যাগ।

প্রেসিডেন্টের অনুরোধ?সম্প্রতি একটি বৈঠক ডেকেছিলেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে (Gotabaya Rajapaksa)। শুক্রবারের সেই বৈঠকে তিনি মাহিন্দ্রা রাজাপক্ষকে পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেছিলেন বলে সেদেশের সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর। তারপরেই সোমবার পদত্যাগ করলেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী।

টুইট বার্তা:এদিন পদত্যাগের আগে একটি টুইট করেন মাহিন্দ্রা রাজাপক্ষে। সেখানে তিনি আবেদন করেছেন, দেশের জনগণ যেন শান্তি বজায় রাখে, হিংসার পথে না যায়। অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে বেরনোর পথ খোঁজা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। যদিও সেই টুইটে কটাক্ষা করতে ছাড়েননি শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন ক্রিকেটার কুমার সাঙ্গাকারা (Kumar Sangakara)। শ্রীলঙ্কায় হিংসাত্মক আন্দোলনের পিছনে মাহিন্দ্রা রাজাপক্ষের সমর্থকদের দিকেই আঙু়ল তুলেছেন তিনি। 

 

এরপর কী?অর্থনৈতিক সঙ্কট তো ছিলই। প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পর এবার রাজনৈতিক সঙ্কটেরও মুখোমুখি ভারতের পড়শি দ্বীপরাষ্ট্রটি। সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি দেশের সব রাজনৈতিক দলগুলিকে বৈঠকে ডাকতে পারেন। যদিও এই মুহূর্তে কে প্রধানমন্ত্রী পদে বসবেন তা স্পষ্ট নয়। শ্রীলঙ্কার প্রধান বিরোধী দল এসজেবি (SJB) আগেই জানিয়েছে অন্তর্বতী সরকারের প্রধানমন্ত্রীর পদ তারা নেবে না। 

বেশ কিছুদিন ধরেই অর্থনৈতিক সঙ্কটে ভয়াবহ পরিস্থিতি শ্রীলঙ্কায়। বিপুল মুদ্রাস্ফীতি, মূল্যবৃদ্ধি এবং বেকারত্বের চাপে ধুঁকছে শ্রীলঙ্কা। বিদেশি মুদ্রা (Foreign Reserve) ভান্ডারও তলানিতে। যার জেরে বাইরে থেকে তেলও আমদানি করতে পারছে না শ্রীলঙ্কা। এর ফলে সেদেশে চলছে তীব্র জ্বালানি সঙ্কট।  শ্রীলঙ্কার এই পরিস্থিতির কারণে সেদেশে রাস্তায় নেমে চলছে বিক্ষোভ। বিক্ষোভ দমাতে একাধিকবার কড়া অবস্থান নিতে হয়েছে শ্রীলঙ্কার সরকারকে। দুবার সেদেশে জরুরি অবস্থাও ঘোষণা করতে হয়েছে। সোমবারও রাস্তায় বিক্ষোভকারী-পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। 

আরও পড়ুন: আপনার গাড়িতেও রাখতে পারেন অভিনব নম্বরপ্লেট , কীভাবে সম্ভব জানেন ?