নয়াদিল্লি: স্ত্রী এবং শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন হেনস্থার শিকার হয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন বেঙ্গালুরুর আইটি কর্মী অতুল সুভাষ। বছর ৩৪-এর কর্মীর এইরকম অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে জোর চর্চা চলছে দেশে। ইতিমধ্যেই অতুল সুভাষের প্রাক্তন স্ত্রী নিকিতা সিঙ্ঘানিয়াকে গ্রেফতার (Atul Subhash Suicide Case) করেছে পুলিশ। এই ঘটনার পরে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে ৪ বছরের নাতির হেফাজত চেয়ে করুণ আর্জি জানালেন অতুল সুভাষের মা। মৃত্যুর আগে দীর্ঘ একটি ভিডিয়ো (Atul Subhash Death) করেছিলেন অতুল সুভাষ এবং ২৪ পাতার একটি নোট লিখে গিয়েছিলেন যেখানে তাঁর স্ত্রী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকেদের নির্যাতনের কথা স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন তিনি।
অতুলের স্ত্রী গ্রেফতার হয়েছেন, কিন্তু অতুলের ৪ বছরের ছেলের কোনো খবরই পাচ্ছেন না তাঁর মা-বাবা। কিছুদিন আগেই তাঁর বাবা জানতে চেয়েছিলেন যে, ছেলেকে আদৌ নিকিতা বাঁচিয়ে রেখেছেন নাকি মেরে দিয়েছেন। আর এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই ৪ বছরের নাতির কোনো খবর না পেয়ে তাঁর হেফাজত চেয়ে করুণ আর্জি জানালেন অতুল সুভাষের মা অঞ্জু দেবী।
এই আবেদনপত্রে অঞ্জুদেবী জানিয়েছেন যে অতুল সুভাষের প্রাক্তন স্ত্রী নিকিতা কিংবা তাঁর পরিবারের সদস্যরা কেউই তাঁকে অতুলের ৪ বছরের পুত্র সন্তানের বিষয়ে কোনো কথাই জানাচ্ছিলেন না। পুলিশের কাছে বারবার নিকিতা জানিয়েছেন যে অতুলের ছেলেকে ফরিদাবাদের একটি বোর্ডিং স্কুলে ভর্তি করানো হয়েছে। অতুল সুভাষের ৪ বছরের ছেলেকে নিকিতার কাকা সুশীল সিঙ্ঘানিয়ার দায়িত্বে রাখা আছে। কিন্তু সুশীল সিঙ্ঘানিয়া নিজে অতুলের ছেলের ব্যাপারে কোনো তথ্য জানাননি অতুলের মাকে।
সুভাষের মৃত্যুকে ঘিরে এই মামলায় বহু লোককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিকিতা সিঙ্ঘানিয়া, তাঁর মা নিশা সিঙ্ঘানিয়া এবং নিকিতার ভাই অনুরাগ সিঙ্ঘানিয়াকে ১৬ ডিসেম্বর গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের তিনজনকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখা হয়েছে। অভিযোগপত্র অনুসারে, অঞ্জু দেবী জানিয়েছেন যে নিকিতার পরিবারের লোকজন অতুলের ছেলেকে যাতে খুঁজে না পাওয়া যায়, সেই জন্য প্রয়াস করেছেন। যদিও এঁর আগে অতুলের বাবা পবন কুমার প্রকাশ্যে সেই সন্তানের হেফাজত চেয়েছেন।
আপনার পছন্দের খবর আর আপডেট পাবেন আপনার পছন্দের চ্যাটিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটস অ্যাপেও। যুক্ত হোন ABP Ananda হোয়াটস অ্যাপ চ্যানেলে।