পটনা: আজ রাখি পূর্ণিমা (Rakhi 2025)। ভাইদের রাখি বাঁধেন বোনেরা, আর তাঁদের সুরক্ষা, ভালবাসার প্রতিশ্রুতি দেয় ভাইয়েরা। এই শুভদিনে পটনায় এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল, যার উদ্যোক্তা ছিলেন স্বয়ং খান স্যার (Khan Sir)। সেই অনুষ্ঠানেই নিজেদের প্রিয় দাদা, শিক্ষককে রাখি পরালেন এক, দুই, দশ নয়, প্রায় ১৫ হাজারের অধিক মেয়েরা।
অতীতে খান স্যরের কোচিং সেন্টারেই এই বিশেষ দিনে রাখিবন্ধন অনুষ্ঠান পালিত হত। তবে এই বছরে মহিলাদের সংখ্যা অন্যান্য যে কোনও বছরের তুলনায় অনেকাংশেই বৃদ্ধি পায়। সেই কারণেই এবারের অনুষ্ঠানটি প্রথমবার শ্রীকৃষ্ণ মেমোরিয়াল হলে আয়োজিত হয়েছিল। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয় তাঁকে রাখি পরানোর উৎসব, চলে প্রায় বেলা ১.৩০টা পর্যন্ত। এই সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় ধরে স্টেজে ঠায় বসে থাকেন খান স্যর। যতক্ষণ না লাইন দেওয়া মহিলাদের সংখ্যা শেষ হয়।
এক সময় খান স্যারের হাতে বাঁধা রাখির ভার এতটাই হয়ে যায় যে কার্যত তাঁর রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে বলে ঠাট্টা করে ডাক্তারকে ডাকতেও বলেন। তাঁকে বলতে শোনা যায়, 'প্রতিটি জায়গা, প্রতিটি রাজ্য থেকে মেয়েরা আজ এখানে এসেছেন। ভারতের গৌরব রাখিবন্ধন উৎসব। আমাদেরই তো এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এই কলিযুগেও আমি এত ভালবাসা পেয়ে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। গোটা পৃথিবীতে আমি ছাড়া এত রাখির পরার সৌভাগ্য হয়তোই আর কারুর হয়। হয়তোই আর কেউ এত বোনেদের ভালবাসা পান। এইবার তো এত রাখি বাঁধা হয়েছে যে রক্ত চলাচলই থেমে গিয়েছে। তবে চিন্তা নেই, ডাক্তাররা ব্যাকআপে রয়েছেন।'
অনেকে খান স্যরকে তাঁর স্ত্রী কোথায় জিজ্ঞেস করলে, তিনি জানিয়ে দেন এই দিনটা কেবলই তাঁর বোনেদের জন্য। তিনি আরও যোগ করেন, 'আজকে কেউ আমার ছাত্রী নয়, সকলেই আমার বোন। আমি সবসময় নিজের ছাত্রীদের নিজের বোন মনে করে সেই অনুযায়ীই পড়িয়েছি। এই জন্যই ক্লাসেও অনেক সময় আমি মেয়েদের একটু বকাঝঁকা করে ফেলি। ওদের সঙ্গে মজা করি।'
এই বিশেষ দিনে তাঁর ছাত্রীদের খাওয়া দাওয়ার জন্য খান স্যার ১৫৬ রকম পদের আয়োজন করেছিলেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল খান স্যারের নিজের কোনও বোন নেই। তবে তাতে কী! আজকের দিনটা প্রমাণ করে দিল রক্তের সম্পর্কে কোনও বোন না থাকলেও, তাঁর বোনের সংখ্যা হাজার হাজার।