মেরঠ: ফুলশয্যার রাতে নিখোঁজ বর। বাল্ব কিনতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু রাত কাবার হয়ে গেলেও আর ফেরেননি। সেই নিয়ে হুলস্থুল কাণ্ড মেরঠে। শেষ পর্যন্ত, পাঁচ দিন পর হরিদ্বারে খোঁজ মিলল বরের। জানা গেল, ঘর থেকে বেরিয়ে হেঁটেই হরিদ্বার পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। কেন এমন ঘটালেন, খোলসা করলেন কারণও। (Groom Vanishes on Wedding Night)
উত্তরপ্রদেশের মেরঠ থেকে এই ঘটনা সামনে এসেছে। সরধনা থানা এলাকার বাসিন্দা মহসিন ওরফে মনুর বয়স ২৬ বছর। সম্প্রতি মুজফ্ফরনগর থেকে বিয়ে সেরে ফেরেন। গত ২৭ নভেম্বর ফুলশয্যার রাতেই গায়েব হয়ে যান মহসিন। পাঁচ দিন ধরে তল্লাশি চালিয়ে শেষ পর্যন্ত হরিদ্বার থেকে তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনল পুলিশ। (Groom Vanishes on Wedding Night)
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফুলশয্যার রাতে স্ত্রী ঘরে অপেক্ষা করছিলেন মহসিনের জন্য। একটা সময় পর তিনি ঘরে ঢোকেনও। সেই সময় নববিবাহিত স্ত্রী তাঁকে জানান, ঘরের আলো বড্ড উজ্জ্বল। কম উজ্জ্বল বাল্ব লাগালে ভাল হয়। সেই মতো বাল্ব কিনতে ঘর থেকে বেরোন মহসিন। তার পর আর ফেরেননি।
রাতভর মহসিনের জন্য অপেক্ষা করেন তাঁর স্ত্রী ও পরিবারের লোকজন। একটা সময় পর তিনি নিজেই ফিরে আসবেন বলে আশা ছিল। পরদিন সকালে মহসিনের দুই বোনেরও বিয়ে ছিল। রাতভর মহসিন না ফেরায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পরিবারের লোকজন। মহসিনের অনুপস্থিতিতেই কোনও রকমে সবকিছু সম্পন্ন হয়। কিন্তু বিয়েবাড়িতে কারও মুখে হাসি ছিল না। ঘরের ছেলে উধাও হয়ে গেলেন কী ভাবে, বুঝতে পারছিলেন না কেউই।
মহসিনের খোঁজ পেতে পুলিশের দ্বারস্থ হন তাঁর পরিবারের লোকজন। সেই মতো তল্লাশি শুরু হতে সিসিটিভি ফুটেজে গঙ্গার সঙ্গে যুক্ত খালের কাছে দেখা মেলে মহসিনের। অপ্রীতিকর কিছু ঘটে থাকবে বলে আশঙ্কায় ডুবুরিও নামানো হয় জলে। কিন্তু খোঁজ মেলেনি মহসিনের। শেষ পর্যন্ত সোমবার মহসিনের খোঁজ পাওয়া যায়। নিজেই এক আত্মীয়কে ফোন করেন তিনি। জানান, হরিদ্বারে আছেন। সেই মতো পুলিশের একটি দল ও পরিবারের লোকজন হরিদ্বার রওনা দেন। সেখান থেকে নিরাপদে বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয় তাঁকে।
কিন্তু ফুলশয্যার রাতে নববিবাহিত স্ত্রীকে ফেলে কেন বেপাত্তা হয়ে গেলেন মহসিন? জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে কারণ খোলসা করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, নববিবাহিত স্ত্রীর সামনে হঠাৎই ‘নার্ভাস’ হয়ে যান তিনি। কী করণীয়, না করণীয়, সব ভেবে বিহ্বল হয়ে পড়েন। অসম্ভব মানসিক চাপ অুভব করেন। তাই বাল্ব কেনার কথা উঠতেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। রাতভর হাঁটতেই থাকেন। হেঁটেই পৌঁছে যান হরিদ্বার। সেখানে স্টেশনের কাছে তিন রাত কাটান তিনি।
মহসিন বেপাত্তা হয়ে যাওয়ার পর থেকে বাড়িতে শোকের আবহ ছিল। বাড়ির লোকজন কান্নাকাটি করছিলেন। ছেলেকে ফিরে পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সকলে। পরিবারের হাতে মহসিনকে তুলে দিয়েছে পুলিশ। সরধনার পুলিশ আধিকারিক দীনেশ প্রতাপ সিংহ জানিয়েছেন, বন্ধুদের কথায় কিছু ওষুধ খেয়েছিলেন মহসিন। তার পর থেকে উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে যায় তাঁর।