এরনাকুলাম: ৬৪ বছরের এক বৃদ্ধ রমেশন নায়ার ইকে বাড়ির একটি গভীর কুয়োতে হঠাৎ করেই পড়ে যান। আর তাঁকে কুয়োতে পড়ে যেতে দেখে স্বামীকে বাঁচাতে তার স্ত্রী ৫৬ বছর বয়সী পি কে পদ্মনও ঝাঁপ দেন সেই গভীর কুয়োয়। অচৈতন্য স্বামী যাতে জলে ডুবে না যান, তাই সাহসী স্ত্রী কোনো কিছু না ভেবেই ঝাঁপ দেন কুয়োতে। কুয়োতে নেমে তার স্বামীকে ধরে থাকেন সেই মহিলা। আর সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন। যতক্ষণ না পর্যন্ত কেউ সাহায্য করতে আসেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তার এই অসম সাহসিকতা দেখে অবাক হয়েছেন নেটিজনরা। প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব এবং সাহসিকতার নির্দশন দিয়েছেন সেই মহিলা।

কেরালার এরনাকুলামে ঘটেছে এই ঘটনা। এক অবসরপ্রাপ্ত পুলিশকর্মী রমেশন এবং তার স্ত্রী পি কে পদ্মন একসঙ্গে বাগান থেকে গোলমরিচের পাতা তুলছিলেন। মঙ্গলবার ঠিক এই সময়েই তাদের পিরাভোনের বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে যায়। দুপুর ৩টে নাগাদ পদ্মন কাছেই এক আত্মীয়র সঙ্গে গোলমরিচের পাতা তুলছিলেন। সেই সময়েই রমেশন যে গাছে উঠেছিলেন সেটি ভেঙে পড়ে এবং ৪০ ফুট গভীর সেই কুয়োতে পড়ে যান রমেশন।

গাছ ভেঙে পড়া এবং রমেশনের চিৎকার শুনে পদ্মন ছুটে আসেন, তার স্বামীকে ডাকতে থাকেন। রমেশন নিচ থেকে জানান দেন যে তিনি ঠিক আছেন, পদ্মন তাঁকে বাঁচানোর জন্য একটি নাইলনের দড়ি ফেলে দেন যাতে তিনি তা বেয়ে উপরে উঠে আসতে পারেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে রমেশন জানান যে তিনি দুর্বল বোধ করছেন এবং বাঁ পায়ে অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে। বিপদ বুঝে পদ্মন আত্মীয়-প্রতিবেশিদের বলেন যেন তারা ফায়ার ব্রিগেডে খবর দেন।

আরও পড়ুন; Ola Scooter: নয়া অবতারে ৩ স্কুটার আনল ওলা, এক চার্জে এবার ছুটবে ৩২০ কিমি ! কত দাম ?

এই ঘটনার কথা মনে  করে বুধবার হাসপাতালে রমেশন সংবাদমাধ্যমে জানান, 'আমি যখন পড়ে যাচ্ছিলাম আমার মাথা আর পিঠ কুয়োর পাঁচিলে জোরে ধাক্কা খায়, আমি প্রথমে ঠিকই ছিলাম, কিন্তু তারপরে ঠিক করে দাঁড়াতেও পারছিলাম না। জল বেশি ছিল না, কোমর পর্যন্ত। কিন্তু আমি ধীরে ধীরে জ্ঞান হারাতে থাকি এবং ডুবতে থাকি।' অন্যদিকে পদ্মন জানান, 'আমার একটাই চিন্তা ছিল ওকে ডুবতে দেওয়া যাবে না। আমি দেখতে পাচ্ছিলাম যে অচৈতন্য হয়ে কীভাবে ও ডুবে যাচ্ছে। যখন ওর মুখে কাছে জল চলে এল, ওকে বহুবার ডাকা সত্বেও ও কোনো সাড়া দিল না।' আর তাই একটা প্লাস্টিকের দড়ি নিচে ফেলে দিয়ে একটা গাছে বেঁধে নিজেই কুয়োয় নেমে যান তিনি। মাঝে দড়ি ছিঁড়ে নিচেও পরে যান তিনি, কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না জল ছাড়া। জলের নিচ থেকে তার স্বামীকে দ্রুত উপরে তুলে ধরেন পদ্মন, কুয়োর দেয়ালে ঠেস দিয়ে শুইয়ে দেন তাঁকে। লক্ষ্য রাখেন যাতে তার মাথা জলের উপরে থাকে সবসময়।

পদ্মন বলেন, 'আমি লক্ষ্য করলাম ও অচৈতন্য হয়ে পড়লেও নিশ্বাস পড়ছে। আমি তাঁকে বলি যে আমি তার পাশে আছি। আমি তাঁকে কিছুতেই চলে যেতে দেব না। একটিবার চোখ খোলো তুমি।' ধীরে ধীরে জ্ঞান ফিরে আসে তার। কিছুক্ষনের মধ্যে ফায়ার ব্রিগেড চলে আসে, তাদের দুজনকেই উদ্ধার করে। কুয়োর নিচে একটি জাল ফেলে তাদের দুজনকে একে একে উপরে তুলে আনা হয়।