China Rail Bus: না বসাতে হয় লাইন, না লাগে চালক, ট্রামের আদলে তৈরি চিনের 'রেল বাস' দেখেছেন?

ছবি: ফ্রিপিক, CRRC.
‘রাস্তা চলেছে যত অজগর সাপ/ পিঠে তার ট্রামগাড়ি পড়ে ধুপ ধাপ’, ট্রামলাইনে সংযুক্ত কলকাতাকে স্বপ্নে নড়তে দেখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সেই ট্রামলাইনের আধুনিক সংস্করণ, Autonomous Rail Rapid Transit বা ‘রেল বাস’ সামনে এনে কয়েক বছর আগে সাড়া ফেলে দেয় চিন।
কারণ ট্রামের মতো দেখতে তিন কামরার যে ‘রেল বাস’ চালু করে তারা, তার জন্য রাস্তায় অজগর সাপের মতো দেখতে লাইন বসাতে হয়নি তাদের। ভার্চুয়াল লাইনের উপর দিয়ে, চালহীন অবস্থাতেই ছুটে যায় ওই ‘রেল বাস’।
২০১৭ সালে চিনে ‘রেল বাসে’র সূচনা হয়। তথাকথিত পরিবহণ বলতে যে বাস, ট্রেন এবং ট্রাম দেখি আমরা, তার চেয়ে পরিবেশবান্ধব যান চালুর লক্ষ্যেই লাইন বিহীন ‘রেল বাস’ চালু করে দেশের রকারি সংস্থা CRRC.
২০২৩ সাল পর্যন্ত চিনের দীর্ঘ রাস্তা ‘রেল বাসে’র দ্বারা সংযুক্ত হয়। মাত্র ১০ মিনিট চার্জ দিলেই ২৫ কিলোমিটার ছুটতে পারে ওই ‘রেল বাস।’ রাস্তায় নির্দিষ্য় গন্তব্যে থামেও ‘রেল বাস’।
লোহার পাতের দ্বারা তৈরি লাইন ছাড়া কী করে দৌড়য় ওই ‘রেল বাস’? নির্দিষ্ট গতিপথ ধরে কী করে এগোয়? উত্তর হল, রং দিয়ে আঁকা চিহ্ন ধরে এগোয় ওই ‘রেল বাস’। চাকা বলতে রবারের টায়ার বসানো থাকে।
চওড়া রাস্তার মাঝ বরাবর যেমন সাদা দাগ কাটা থাকে, তেমনই দাগ ধরে এগোয় চিনের ‘রেল বাস’। তার নীচে বসানো রয়েছে বিশেষ সেন্সর, যা ওই দাগ ধরে এগোতে সাহায্য করে ‘রেল বাস’কে।
‘রেল বাসে’র নীচে বসানো ওই সেন্সর এতই উন্নত এবং আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর যে, প্রত্যেক মিনিটের রাস্তার হাল-হকিকতের আপডেট থাকে তার কাছে। সামনে কোনও মানুষ বা গাড়ি থাকলে, আগে থেকেই সেই মতো গতি কমিয়ে আনার নির্দেশ দেয়।
ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে চিনের ওই ‘রেল বাস’। একবারে ২৩১ জন যাত্রী বহনে সক্ষম। সেন্সর থেকে সরাসরি ডেটা চলে যায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে, সেই মতো নির্বিঘ্নে, নির্ভুল লক্ষ্যে এগিয়ে চলে ‘রেল বাস’।
‘রেল বাস’ চলার জন্য চিনের রাস্তাতেও বিশেষ ট্রাফিক নিয়ম রয়েছে। ‘রেল বাস’ আসার সময় হলে ইন্টারসেকশনে সবুজ আলো জ্বালানো হয়। তিনটি কামরা থাকা সত্ত্বেও ৯০ ডিগ্রি কোণে বাঁক নিতে পারে চিনের ‘রেল বাস’।
২০১৭ সালে লন্ডন ডিজাইন মিউজিয়ামের আয়োজিত ‘Beazley Designs of the Year 2017’-এ মনোনীতও হয় চিনের ‘রেল বাস’।