Science News: অন্যজন হলে হেসে কুটোপাটি, কিন্তু নিজেকে কাতুকুতু দিতে পারি না আমরা, কেন এমন হয়?

ছবি: ফ্রিপিক।
এমনিতে বজ্রকঠিন হলেও, কাতুকুতু এড়াতে পারেন, এমন লোকের সংখ্যা কমই। মুহূর্তের মধ্যে মেজাজ গলে জল, হেসে কুটোপাটি হই আমরা।
কিন্তু অন্যের হাতে কাতুকুতু লাগলেও, নিজের হাতে কাতুকুতু, সুড়সুড়ি কিছুই অনুভূত হয় না। কেন এমন হয় না, তার ব্যাখ্য়া রয়েছে বিজ্ঞানের কাছে।
স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির স্নায়ুবিজ্ঞানী ডেভিড ইগলম্যান এর ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সামনে থেকে যখন কেউ কাতুকুতু দেন, অতর্কিতেই ঘটে যায় গোটা বিষয়টি। ফলে মস্তিষ্কে ইঙ্গিত পৌঁছয় না।
কিন্তু নিজেকে নিজে কাতুকুতু দিতে গেলে আগে থেকেই খবর পৌঁছে যায় মস্তিষ্কে। মস্তিষ্ক শুধু প্রতিক্রিয়াই জানায় না, আগামী আঁচ করে নেয় কী ঘটতে চলেছে।
মানুষ যখন কিছু করতে উদ্যত হন, মস্তিষ্কের যে অংশ বার্তা গ্রহণ করে, সেই Primary Motor Cortex সেই বার্তা পৌঁছে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে প্রস্তুত হয়ে যায় মস্তিষ্ক। বার্তা পৌঁছয় সংশ্লিষ্ট অঙ্গে।
পেন বা পেনসিলও যদি ধরতে যাই আমরা, সেক্ষেত্রে হাত এবং আঙুলে বার্তা পৌঁছে যায়। সংশ্লিষ্ট পেশিতে বার্তা পৌঁছয় পরবর্তী ঘটনাক্রম অনুযায়ী।
কিন্তু কাতুকুতুর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের যে অংশে সংকেত পৌঁছয়, সেটিকে Somatosensory Cortex বলা হয়। নজরদারি চালানোর জন্য মস্তিষ্কে Cerebellum নামের একটি অংশ রয়েছে। ত্বকের সংবেদনশীলতা সেটি নিয়ন্ত্রণ করে।
আপনি কীভাবে নড়াচড়া করছেন, তা বুঝে নেয় এই Cerebellum. বাইরে থেকে কারও ছোঁয়া লেগে নয়, আপনি নিজে নিজেকে কাতুকুতু দিচ্ছেন বুঝলে কাতুকুতুর Somatosensory Cortex-কে নিষ্ক্রিয় করে রাখে এটি।
এই গোটা প্রক্রিয়াটিকে Reafference বলা হয়। এর জেরেই স্পর্শ অনুভব করি আমরা। কোন স্পর্শে বিপদ, তা বুঝতে পারি। নিজের থেকে বিপদ নেই বলেই নিজেকে দেওয়া কাতুকুতু অনুভূত হয় না।
তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে। যেমন স্কিৎজোফ্রেনিয়া আছে যাঁদের, তাঁদের মস্তিষ্ক স্বাভাবিক ভাবে কাজ করে না। ফলে নিজে নিজেকে কাতুকুতু দিতে পারেন তাঁরা।