নয়াদিল্লি: ঐতিহাসিক চন্দ্রাভিযান থেকে পৃথিবীতে ফিরলেন চার মহাকাশচারী। প্রায় অর্ধশতক পর চন্দ্রাভিযান সেরে পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন করলেন। প্যারাশুটে ঝুলে প্রশান্ত মহাসাগরে নামলেন Artemis 2 অভিযানে শামিল চার মহাকাশচারী। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA সরাসরি সেই দৃশ্য তুলে ধরেছে গোটা বিশ্বের সামনে। (Artemis 2 Astronauts Return Home)

Continues below advertisement

পৃথিবী থেকে ৪ লক্ষ ৬ হাজার ৭৭৮ কিলোমিটার দূরে গিয়ে আবারও পৃথিবীতে ফিরে এলেন চার মহাকাশচারী। তাঁদের এই রুদ্ধশ্বাস অভিযানের দিকে গোড়া থেকেই নজর ছিল সকলের। শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে পৃথিবীতে প্রবেশ করে মহাকাশযানটি। সেই সময় প্রায় ছ’মিনিট মহাকাশচারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত সব কিছু ভালভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। (Artemis 2 Mission)

চার মহাকাশচারীকে সঙ্গে নিয়ে ২১ শতকের প্রথম চন্দ্রাভিযান হিসেবে নাম থাকবে Artemis 2-র। চাঁদের বুকে মানুষ পাঠানোর আগে সেখানকার পরিস্থিতি এবং খুঁটিনাটি দেখে এলেন কম্যান্ডার রিড ওয়াইজ়ম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। শব্দের চেয়ে ৩৩ গুণ বেশি গতিতে বায়ুমণ্ডল ভেদ করে পৃথিবীতে প্রবেশ করেন তাঁরা। Orion ক্য়াপসুলটি অটো পাইলট মোডে ছিল সেই সময়। গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৪০০০০ কিলোমিটার। তাপমাত্রা ছিল ২ হাজার ৭৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তবে চার মহাকাশচারীর পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন মোটেই সহজ ছিল না। কারণ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় ঘর্ষণের জেরে আগুনের লেলিহান শিখা কার্যত গ্রাস করে Orion ক্যাপসুলটিকে। তেতে ওঠে ক্যাপসুলটি। সেই সময়ই NASA-র সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় মহাকাশচারীদের, যার পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল। ২০২২ সালে যখন পরীক্ষানিরীক্ষা চলছিল, সেই সময় আগুনে দগ্ধ হওয়ার পর ক্যাপসুলটির শরীরও চন্দ্রপৃষ্ঠের মতো হয়ে যায়, গর্তে ভর্তি, ক্ষতবিক্ষত।   

তাই Orion অত্যধিক তাপমাত্রা সহ্য করে মহাকাশচারীদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে পারবে কি না, তা নিয়ে হৃদস্পন্দন বাড়ছিল। ফ্লাইট ডিরেক্টর দেফ ব়্যাডিগ্যানের আশঙ্কা ছিল, যে ছ’মিনিট যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে, তখন থেকে প্যারাশুট খোলার আগে পর্যন্ত কিছু অপ্রীতিকর না ঘটে যায়। তবে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন তাঁরা। USS John P Murtha জাহাজটি সান দিয়েগো উপকূলে অপেক্ষা করছিল। মোতায়েন রাখা ছিল সেনার বিমান এবং হেলিকপ্টার। ১৯৭২ সালে Apollo 17 অভিযানের সময়ও সেনাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠ ভাবেই সম্পন্ন হল মহাকাশচারীদের ফিরিয়ে আনার কাজ। 

গত ১ এপ্রিল ফ্লোরিডা থেকে চাঁদের উদ্দেশে রওনা দেন Artemis 2-র চার মহাকাশচারী। তাঁরা চাঁদের মাটিতে পা রাখেননি যদিও। তবে Apollo 13-র রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে Artemis 2. পৃথিবী থেকে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব পাড়ি দেওয়ার রেকর্ড এখন তার দখলে, ৪ লক্ষ ৬ হাজার ৭৭১ কিলোমিটার। এই অভিযানে পর পর আবেগঘন মুহূর্তও তৈরি হয়। ওয়াইজম্যানের প্রয়াত স্ত্রীর নামে চাঁদের গহ্বরের নামকরণের অনুমতি চান মহাকাশচারীরা। চাঁদের উল্টোপিঠের ছবি তোলার পাশাপাশি, সেখান থেকে অস্তমিত পৃথিবীর ছবি তোলেন। মহাকাশে সূর্যগ্রহণের মুহূর্তও ফ্রেমবন্দি করেন মহাকাশচারীরা।

Artemis 2 অভিযান বাধাবিঘ্ন থেকে একেবারে মুক্ত ছিল না যদিও। ১০ দিনের অভিযান চলাকালীন পর পর যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়। ক্যাপসুলের পানীয় জল এবং প্রপেল্যান্ট সিস্টেমে ভালভের সমস্যা ধরা পড়ে। শৌচাগার কাজ করা বন্ধ করে দেয়। তবে এত সমস্যা সত্ত্বেও মনোবল হারাননি চার মহাকাশচারী। আগামী বছর Artemis 3 অভিযান রয়েছে, যার আওতায় ল্যান্ডারের সঙ্গে মহাকাশযানটিকে নোঙর করার অনুশীলন চলবে।