কলকাতা: প্রায় শেষের পথে নাসার (NASA)-র 'আর্টেমিস ২' (NASA’s Artemis II mission) অভিযান। পৃথিবীর মাটিতে ফেরার পথে ইতিমধ্যেই পাড়ি দিয়েছে এই চন্দ্রযান। জানা যাচ্ছে ওরিয়ন মহাকাশযানটি প্রাশান্ত মহাসাগরের বুকে, প্রবল গতিতে ল্যান্ড করবে বা অবতীর্ণ হবে। শুনতে সহজ লাগলে, এই দীর্ঘ অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল এই ল্যান্ডিং পার্ট। মহাকাশ থেকে ফেরার পরে, ল্যান্ডিংয়ের সময় ব্যবহার করা হবে, সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তি।
পৃথিবীর মাটি ছোঁয়ার প্রস্তুতি
বৃহস্পতিবার এই মিশন সম্পর্কে বলতে গিয়ে, নাসার অ্যাসোসিয়েট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর অমিত ক্ষত্রিয় বলেন, 'সমস্ত ইঞ্জিনিয়ার, সমস্ত টেকনিশিয়ান্স, যাঁরা এই মেশিনটা একবার হলেও ছুঁয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে বলছি, ক্রু-রা তাঁদের কাজ একেবারে সঠিকভাবে করেছে। এবার কিন্তু আমাদের দায়িত্ব।' এই মিশনে চাঁদে পাড়ি দিয়েছিলেন, রিড উইসম্যান, ভিক্টর গ্লোভার এবং ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। এই মিশনের বিশেষত্ব হল, এই মহাকাশচারীরা চাঁদের যতটা দূরত্বে পৌঁছতে পেরেছিলেন, সেখানে আগে কখনও কোনও মানুষের পা পড়েনি। সেই পরীক্ষায় সফল হয়েছেন তাঁরা। কিন্তু এবার, সুরক্ষিতভাবে নিজেদের মাটিতে ফেরার পালা।
কীভাবে ল্যান্ডিং?
মহাকাশযানটি প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে ল্যান্ড করবে। ল্যান্ডিংয়ের সময় তার গতিবেগ থাকবে ভীষণ বেশি। কিন্তু ঠিক কীভাবে হবে এই ল্যান্ডিং? নাসা জানাচ্ছে, মহাকাশযানটি ১১ এপ্রিল পৃথিবীতে ফিরে আসবে। মহাকাশযানটি প্রথমে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফের প্রবেশ করবে এবং তারপরে, সান দিয়াগোর কাছে, প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে ল্যান্ড করবে। আর এটাই এই মিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ল্যান্ডিং সঠিকভাবে হলেই বোঝা যাবে, বিপদ কেটে গিয়েছে। এরপরে হেলিকপ্টারের সাহায্যে মহাকাশচারীদের উদ্ধার করে পাড়ে নিয়ে আসবে রিকভারি টিম। USS John P Murtha-অ্যাম্ফিবিয়াস জাহাজে নিয়ে যাওয়া হবে।
মানতে হবে কী কী শর্ত?
নাসা আরও জানাচ্ছে, যে কোনও পরিস্থিতিতেই যে প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে ল্যান্ডিং করা যাবে, এমনটা নয়। এর জন্য বিশেষ কিছু পরিবেশ পরিস্থিতি থাকতে হবে। সেগুলো মিলে গেলে, তবেই মিলবে ল্যান্ডিংয়ের সম্মতি। প্রথমত, ঢেউয়ের উচ্চতা থাকতে হবে ৬ ফুটের নিচে। বাতাসের গতি ২৮.৭ মাইল/ঘণ্টা (৪৬ কিমি/ঘণ্টা)-এর কম হতে হবে। ৩০ নটিক্যাল মাইল এলাকার মধ্যে কোনোরকম বৃষ্টি, বর্জ্রপাত বা আবহাওয়া খারাপ হওয়া চলবে না। এর পাশাপাশি, ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হল দৃশ্যমানতা। সেটা থাকতে হবে একেবারে স্বচ্ছ। বিজ্ঞানীর অবশ্য আশাবাদী যে, নির্দিষ্ট দিনে ও নির্দিষ্ট সময়ে এই সমস্ত শর্তগুলিই মিলে যাবে ফলে ল্যান্ডিং-এ কোনও সমস্যা হবে না।
