নয়াদিল্লি: চাঁদের উল্টোপিঠ চাক্ষুষ করা থেকে, অস্তমিত পৃথিবীর ছবি তুলে ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলে দিয়েছে Artemis 2 অভিযান। এই অভিযানের দৌলতে আরও বিরল অভিজ্ঞতা হল পৃথিবীবাসীর। মহাকাশে মানুষের মল ভেসে বেড়াতে দেখা গেল। ওই ভিডিও সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ওই দৃশ্য দেখে গা ঘিনঘিন করছে অনেকেরই। তবে মহাশূন্যের বুকে বর্জ্য নিষ্কাশন মহাকাশচারীদের কর্মসূচির মধ্যেই পড়ে। ( Artemis 2 Spacecraft Science News)

Continues below advertisement

পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর চাঁদে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA. তার আগে পরিবেশ, অবস্থান পর্যবেক্ষণে চার মহাকাশচারীকে সম্প্রতি চন্দ্রাভিযানে পাঠানো হয়। তাঁদের উল্টোপিঠের ছবি তোলা থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কার্য সম্পাদন করেছেন তাঁরা। প্রযুক্তির দৌলতে মহাকাশে তাঁদের বিভিন্ন মুহূর্তের ভিডিও পৃথিবীতে এসে পৌঁছেছে। আর তাতেই মহাকাশে মানুষের মল ভেসে বেড়াতে দেখা গেল। (Artemis 2)

NASA-র তরফে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে Orion ক্য়াপসুলের খুঁটিনাটি দেখানো হচ্ছিল। ক্যাপসুলের উপরের অংশ দিয়ে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল চাঁদ। সেই সময়ই মহাকাশযানের অন্য একটি জানলা দিয়ে জমে যাওয়া বর্জ্য বাইরে ফেলে দিতে দেখা যায় মহাকাশচারীদের। নিয়ন্ত্রিত ভাবে ওই বর্জ্য় বাইরে ফেলা হয়, যাতে মহাকাশযানের উপর এসে না পড়ে, কোনও রকম বাধাবিঘ্নের সৃষ্টি না হয়।

Continues below advertisement

মহাকাশযান থেকে মানুষের মল বাইরে ফেলা হচ্ছে বলে বোঝাই যায়নি প্রথমে। বরং বরফের স্ফটিক বলেই ঠাহর হয় সবকিছু। NASA-র বিজ্ঞানীরাই জানান, নিজেদের মল বাইরে ফেলছেন মহাকাশচারীরা। ঊর্ধ্বপাতনের জেরে মহাকাশে মূত্র তরল অবস্থা থেকে জমে যায়, বরফের স্ফটিকে পরিণত হয়। অন্য দিকে, বায়ুমণ্ডলীয় চাপ এবং অণুজীবের অনুপস্থিতিতে কঠিন বর্জ্য জলশূন্য এবং জীবাণুশূন্য হয়ে পড়ে। এতে বর্জ্য নিষ্কাশন প্রক্রিয়া তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ হয়। মহাকাশে সাধারণত বর্জ্য এমন ভাবে নিক্ষেপ করা হয়, যাতে তা আর মহাকাশযানের সমস্পর্শে না আসতে পারে। 

Artemis 2-র মতো স্বল্পমেয়াদি অভিযানের ক্ষেত্রে বেশি দিন বর্জ্য মজুত রাখার ব্যবস্থা থাকে না মহাকাশে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর খালি করতে হয়। তবে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, স্বল্পমেয়াদি অভিযানের ক্ষেত্রে এভাবে বর্জ্য খালি করা সম্পদে পরিণত হয়।