নয়াদিল্লি: জীবনে চলার পথে ছোটখাটো মিথ্যে বলে থাকি আমরা। কেউ কেউ আবার মিথ্যে বলাকে শিল্পের পর্যায়েও নিয়ে যান। কিন্তু পশুপাখিরা কি মিথ্যে বলতে পারে? গবেষণায় নয়া তথ্য উঠে  এল এবার। (Can Animals Lie)

Continues below advertisement

পশুপাখিরা মিথ্যে বলতে পারে কি না, সেই নিয়ে গবেষণায় যুক্ত প্রাণী বিজ্ঞানী জেমস ও’হ্যানলন। ‘Liars, Cheats and Copycats: Trickery and Deception in Nature’ বইয়ে বিশদ তথ্য তুলে ধরেছেন তিনি। (Science News)

পশুপাখিদের ছদ্মবেশ, অনুকরণ, বিভ্রান্তি তৈরির কৌশল অন্বেষণ করতে গিয়ে যে প্রশ্ন উঠে এসেছে, তা হল, পশুপাখিরা কি মিথ্যে বলতে পারে? এ ব্যাপারে কাটার মতো লেজের অধিকারী ড্রঙ্গো পাখির কথা তুলে ধরেছেন হ্যানলন। আফ্রিকায় মূলত দেখা যায় ছোট আকারের পাখিটিকে। মিথ্যে বার্তা দেওযার ক্ষমতা রয়েছে ওই পাখির। প্রতারণামূলক আচরণের জন্য বরাবরই তাই বিজ্ঞানীদের নজরে রয়েছে। 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন: মোবাইল-কম্পিউটারে RAM থাকবে না? সব দিয়ে দিতে হবে ডেটা সেন্টারকে? OpenAI কর্ণধারের মন্তব্যে তোলপাড়

ওই ড্রঙ্গো পাখি অন্য প্রাণীর ডাক নকল করতে পারে চমৎকার। খাবার চুরি করতে নেউল জাতীয় মিরক্যাটদের হুবহু নকল করে পাখিটি। তার ডাক শুনে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে মিরক্যাটরাও। সঙ্গীর সদস্যবার্তা ভেবে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটে যায়। মিরক্যাট ছুটে পালালেই, তাদের ফেলে যাওয়া খাবার উদরস্থ করে ড্রোঙ্গো। 

শুধু তাই নয়, প্রায় ৫০টি প্রাণী এবং একাধিক পাখিকেও নকল করতে পারে ড্রঙ্গো। সেই তালিকায় রয়েছে কেপড গ্লসি স্টার্লিং বা পাইড ব্যাবলারও। মিথ্যে সতর্কবার্তা দেওয়ার কৌশলও বার বার পরিবর্তন করে ড্রঙ্গো, যাতে প্রতিপক্ষ চাতুরি বুঝতে না পারে। 

আরও পড়ুন: সৌরজগতে নতুন বামনগ্রহের সন্ধান মিলল, প্লুটোর প্রতিবেশী, অনেক দূর থেকে প্রদক্ষিণ করছে সূর্যকে

পশুপাখিরা মিথ্যে বলতে পারে কি না, তা বোঝার এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছেন বিজ্ঞানীরা। দলবদ্ধ ভাবে যারা জঙ্গলে বাস করে, তাদের মধ্যে এই সম্ভাবনা বেশি বলে মত তাঁদের। তিমি, ডলফিন মৃদু সুরে সঙ্কেত পাঠায়, পিঁপড়ে, উইপোকা আবার রাসায়নিক নিঃসরণের মাধ্যমে। হাঁক দিয়ে বার্তা পাঠায় বুনো কুকুরও। তবে ইচ্ছাকৃত ভাবে পশুপাখিরা মিথ্যে বলে কি না, নাকি প্রাকৃতিক ভাবে ভাবে বিষয়টি আচরণের মধ্যেই নিহিত, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়নি এখনও পর্যন্ত। 

পশুপাখিদের আচরণ নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে প্রধান নিয়ম হল মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বা আবেগের দিক থেকে তাদের না দেখা। পশুপাখিদের সঙ্গে মানুষের আচরণের মিল রয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না প্রথমেই। কারণ মিথ্যে বলা মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পড়ে। পশুপাখিদের ক্ষেত্রে হলফ করে এমনটা বলা যায় না।